বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৩

চিলমারীতে বহুতল স্কুল ভবন নির্মাণ কাজের ফলক উম্মোচন


চিলমারীতে বহুতল স্কুল ভবন নির্মাণ কাজের ফলক উম্মোচন thumbnail

স্টাফ রিপোর্টার:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বহুতল স্কুল ভবন নির্মাণের জন্য ফলক উম্মোচন করা হয়েছে।
রোববার সারাদেশের ‘৩১০ উপজেলা সদরে নির্বাচিত বেসরকারী বিদ্যালয়সমূহকে মডেল স্কুলে রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চিলমারী উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত থানাহাট এ, ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪তলা ভিত বিশিষ্ট ৩তলা একাডেমীক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ জাকির হোসেন।
এসময় চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল কুদ্দছ সরকার, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেফাউন্নাহার সাজু, উপজেলা প্রকৌশলী অজয় কুমার সরকার, চিলমারী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কাশেম, গোলাম হাবিব মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জাকির হোসেন, সাপ্তাহিক যুগের খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এস, এম নুরুল আমিন সরকার, চিলমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম সাবু, থানাহাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফুল ফরিদ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ভূট্টু, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মানের কাজ শুরু করা হয়।

সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

তিস্তা নদীর উপর দিয়ে নতুন বাঁধ সংরক্ষনের দাবি এলাকাবাসীর



তিস্তা নদীর উপর দিয়ে নতুন বাঁধ সংরক্ষনের দাবি এলাকাবাসীর thumbnail
চিলমারী সংবাদঃ
উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গ্রামগুলো তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে প্রতি বছর। বন্যা মৌসুম শুরু হলেই দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙ্গন। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সাদুয়া দামারহাট, খামারদামারহাট, পশ্চিম বজরা, সাতালস্কর, চর বজরা ,চর বজরা পুর্বপাড়া ,কাসিমবাজার  ও বিরহিম। গত বছর বন্যা মৌসুমে তিস্তার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে ইমান ব্যাপারীর গ্রাম,বুড়ার গ্রাম, পরেশ শীলের গ্রাম, আকবর হুজুরের গ্রামসহ চর বজরা উচ্চ বিদ্যালয়, চর বজরা রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বজরা এবতেদায়ী মাদ্রাসা, বি রহিম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ। নদী ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ায় শিা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যত্র স্থানন্তর করা হয়েছে। ভাঙ্গণের শিকার পরিবারগুলো বিভিন্নস্থানে কোন রকমে মাথা গোজার ঠাই পেলেও আরো এলাকার শত শত পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে বজরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: রেজাউল করিম আমিন জানান, গত বন্যায় তার ইউনিয়নের প্রায় কয়েক হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। ভেঙ্গে গেছে বজরা ইউনিয়নের অনেক মৌজা,এলাকার বাঁধ রাস্তা। বিষয়টি তাৎনিকভাবে পাউবোকে জানানো হয়েছে। সরকারীভাবে নদীর তীর সংরণ বা প্রতিরার ব্যবস্থা করা সময়ের ব্যাপার। এ কারণে তিনি অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্পের আওতায় মোট ৪৮৫ জনের মধ্যে ৩০২জন শ্রমিক দিয়ে নদীর ভাঙ্গণ ঠেকাতে দুই হাজার ফিট রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেছেন।
সাতালস্কর রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তার মাথা থেকে শুরু করে দেিণ গোটা নদীর উপর দিয়ে তৈরী হবেএ রাস্তা। রাস্তার দৈর্ঘ্য এক হাজার ১শ’ফিট এবং প্রস্থ্য ৫০ফিট।
শ্রমিক নুর জাহান, মজিবর, মোঃআঃছাত্তার, হোসেন, আমেজা, রসিদা, জামেনা,মমতাজ বেগম ও নুরজ্জামান জানান, রাস্তাটির কাজ সম্পন্ন হলে বন্যা মৌসুমে নদীর স্রোত পরিবর্তন হবে। এতে  এ কটি মৌজার আবাদী জমি, ঘরবাড়ী, রাস্তা-ঘাট, শিা প্রতিষ্ঠান তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গণ থেকে রা পাবে। এছাড়াও ১৫ হাজার পরিবার জমি ফিরে পাবে এবং স্বাবলম্বী হবে। তারা আরো বলেন এক সময় বজরা ও কাসিম বাজারের ফসল, শাক সবজি, গম, ভুট্রা, বাদাম, পিয়াজ, মরিচ, কাউন, শরিশা, ডাল কুড়িগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেতো। বাধটি নির্মান হলে চিলমারী উপজেলা হইতে সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্ন্য়ন হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাধটি যেভাবে তৈরী করা হচ্ছে বর্ষায় তা টিকবেনা তাই বাঁধটির দুই পাশে পাইলিং এর ব্যবস্থা করলে নদী ভাঙ্গঁন থেকে রা পাবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

চিলমারীতে ভেজাল সার সহ আটক ১। ৫ দোকান সিলগালা



চিলমারীতে ভেজাল সার সহ আটক ১: ৫ দোকান সিলগালা thumbnail
চিলমারী সংবাদঃ

কুড়িগ্রামের চিলমারী থানাহাট বাজারে জনতা কর্তৃক এক ট্রাক ভেজাল জৈব সার সহ একজনকে আটক করে পুলিশে সপর্দ করেছে।
জানা গেছে, উপজেলার সদর থানাহাট বাজারে রোববার দিবাগত রাত ৯টায় সময় বজরা এলাকার মৃত্যু পিনু মিয়ার ছেলে আঃ আজিজ একটি ট্রাকে ৫০ বস্তা ভেজাল জৈব সার নিয়ে এসে বকুলের দোকানে নামার সময় স্থানীয় ও বাজার করতে আসা লোকজনের সন্দেহ হলে তারা ট্রাকসহ সার ও ব্যবসায়ী আঃ আজিজকে আটক করে।
খবর পেয়ে তৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কৃষি অফিসার ও থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে ট্রাক বোঝাই সারসহ আঃ আজিজকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। অভিযুক্ত আঃ আজিজ জানান মের্সাস ইসলাম ট্রের্ডাস কুড়িগ্রাম থেকে  চিলমারীতে ৫০ বস্তা সার বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছিলাম।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুন উল হাসান জানান, খবর পেয়ে আমি ঘটনা স্থলে গিয়েছিলাম সার গুলো সন্দেহ হওয়ায় জব্দ করে চিলমারী থানা হেফাজতে রেখে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সন্দেহ জনিত কারনে ৫টি দোকান সিলগালা করা হয়।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চিলমারী থানায় একটি মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছিল এবং ব্যবসায়ী আঃ আজিজ ও ট্রাকসহ সারগুলো থানার হেফাজতে ছিল।

রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১২

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে চিলমারীতে গন বিক্ষোভ


চিলমারী সংবাদঃ

গোলাম আজম, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধাপরাধে আটক ব্যাক্তিদের সহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের ফাসিঁর দাবিতে শনিবার কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চিলমারী শাখা, সকল অঙ্গসংগঠন, ১৪দল ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্দ্যেগে গন বিক্ষোভ ও সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় সমাবেশে ও গণ মিছিলে বিভিন্ন পেশার শতশত লোকজন যোগদেন। গন বিক্ষোভটি সকাল ১১টায় আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে উপজেলা প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে দলীয় কার্যলয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ চিলমারী সভাপতি মোঃ শওকত আলী সরকার(বীর বিক্রম), উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক মোঃ আঃ কুদ্দুস সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, যুগ্ন সম্পাদক নিপেন্দ্রনাথ অধিকারী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মহশিন আলী, অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, অধ্যক্ষ মোঃ জাকির হোসেন, অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ শাখার সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মোঃ ফুয়াদ হাসান মুরাদ, গনতান্ত্রিক পাটির সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম, ছাত্রলীগ সভাপতি মাইদুল ইসলাম প্রমুখ।

মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১২

চিলমারীতে হরতাল সমর্থনকারীদের সড়ক অবরোধ, মহড়া ও সমাবেশ


চিলমারী সংবাদঃ


কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ, মহড়া ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি।
হরতাল সমর্থকারীরা ভোর থেকেই বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেয়া শুরু করে এসময় চিলমারী-কুড়িগ্রাম সড়কে ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ন মোড় গুলোতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কারীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।
পরে আঃ মতিন সরকার শিরিনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ কারীরা উপজেলার বিভিন্ন সড়কে মহড়া দেয়।
মহড়া শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপজেলা বিএনপির স্থগিত কমিটির সভাপতি মোঃ হামিদুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারন সম্পাদক মোঃ সাহেব আলী, যুবদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য আঃ মতিন সরকার শিরিন, কেন্দ্রীয় কমিটি কতৃক সুপারিশ কৃত যুবদলের সহ-সভাপতি তাইবুর রহমান, জিয়াউল কবির বাপ্পি, সাধারন সম্পাদক আবু সাঈদ হোসেন পাখি, যুবনেতা রফিকুল, আমজাদ প্রমুখ।
অপর দিকে হরতাল চলাকালীন শহরে দোকান পাঠ ও যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপজেলা বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেয় ও পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয় এরিপোট লেখা পর্যন্ত কোথায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি

বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১২

চিলমারীতে বাঁশ ও বেতের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত

চিলমারী সংবাদঃ

পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর অর্থায়নে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে মঙ্গা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ (সংযোগ) কর্মসূচীর আওতায় বাঁশ ও বেতের কাজ বিষয়ক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়েছে। থানাহাট ইউনিয়ন সমাজ কল্যাণ সংস্থার হলরুমে আরডিআরএস বাংলাদেশের চিলমারী এলাকা ব্যবস্থাপক মোঃ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রকল্প ব্যবস্থাপক এস,এম আলমাস, আইজিএ অফিসার মোঃ শাহীন মিঞা, বহরেরভিটা শাখা ব্যবস্থাপক শেফালী বেগম, প্রশিক্ষক আলমগীর হোসেন, সাংবাদিক এস, এম নুরুল আমিন সরকার, প্রভাষক জিয়াউর রহমান জিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। গত ১১ নভেম্বর ২০১২ তারিখে ১২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়। পরে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদেরকে জনপ্রতি ২ হাজার ৬‘শ ৪০ টাকা করে প্রদান করা হয়।

শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১২

চিলমারীতে অলৌকিক ক্ষমতাধর এক শিশুর আর্বিভাব রোগ মুক্তির আশায় হাজার হাজার মানুষ ছুটছে তার কাছে

চিলমারী সংবাদঃ
অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী সাড়ে তিন বছরের শিশুটিকে নিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে কৌতুহল বেড়েই চলেছে। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ রোগ মুক্তির আশায় ছুটে আসছে শিশিুটির কাছে। রোগীদের অনেকেরই দাবী শিশুটির দেওয়া পড়া পানি ও তেল এবং ঝার- ফু’কে দীর্ঘ দিনের পুরাতন অসুখ থেকে তাদের মুক্তি মিলছে। ঘটনাটি ঘটছে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মুদাফৎ কালিকাপুর হাজীপাড়া গ্রামে।
শিশুটির মা মোছাঃ সুন্দরী বেগমের (২৮) দাবী সুমন জন্ম সূত্রেই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। পিতা সাইদুর রহমান জানান, তাদের আদি নিবাস ছিল চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের মুদাফৎকালিকাপুর হাজীপাড়া গ্রামে। গত বছর নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামে তার মামার বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানেই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী শিশুপুত্র সুমনের জন্ম হয় । সুমনের মা জানায়, শিশুটির বয়স যখন ৪০ দিন, তখন হঠাৎ তাকে আল্লাহ্‌   আল্লাহ্‌ বলে জেকের করতে দেখে অবাক হয় সে। এর এক বছর পর সুমন যখন কথা বলতে শেখে তখনই প্রথম সে পানি পড়া, তেল পড়া ও ঝার-ফু দিয়ে তার মা এবং অসুস্থ্য ফুফুকে সুস্থ্য করে তোলে। এর পর পরই শিশুটির অলৌকিক ক্ষমতার কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পরে । দূর -দূরান্ত থেকে অসুস্থ্য লোকজন শিশুটির নিকট আসতে থাকে। এই সুযোগে উক্ত এলাকার একটি মহল অলৌকিক শিশু ও তার হত দরিদ্র পরিবারটিকে ঘিরে এক ধরনের ব্যবসা পেতে বসে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হলে,কুড়িগ্রাম পুলিশ প্রশাসনের পÿ থেকে শিশুটি ও তার পরিবারকে তাদের আদি নিবাস চিলমারীতে পাঠিয়ে দেয়।
রৌমারী,রাজীবপুর,জামালপুর,চিলমারী,উলিপুর,রাজারহাট,নাগেশ্বরী,ফুলবারী,ভ‚রুঙ্গামারীসহ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা ছুটে আসছে শিশুটি’র কাছে। সরেজমিনে গিয়ে দূর দূরান্ত থেকে আগত রোগীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, অলৌকিক ÿমতা সম্পন্ন শিশু সুমন শুধু পানি পড়া, সরিষার তেল পড়া আর ঝার-ফু দেয়। এর বিনিময়ে সে কোনও পারিশ্রমিক কিংবা টাকা পয়সা নেয় না। গ্রামবাসীরা স্থানীয় মসজিদ ও মোক্তবের উন্নয়নের জন্য একটি দান বাক্্র বসিয়ে দিয়েছে। আগত লোকজন খুশি হয়ে সেখানে যা দান করে সেটাই আর্থিক সংগ্রহ। আর্থিক সংগ্রহ যাই হোকনা কেন, শিশুটিকে ঘিরে অনেক মানুষের আয়ের পথ সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যন্ত এই চরাঞ্চলে এখন হোটেল ,পানের দোকান সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। শিশুরা দূর দূরান্ত থেকে আগত মানুষের মাঝে বিক্রি করছে তেল ও পানির বোতল। জানাগেছে, দিনে ১’শ টি তেলের বোতল বিক্রি করতে পারলে তাদের ৩০০/- টাকা লাভ হচ্ছে। অপরদিকে রমনা নৌঘাট থেকে দিনে মাত্র দু’টি নৌকা অষ্টমীরচর আসতো। তাতে নৌকার মাঝিদের খরচ বাদ দিয়ে ৫ /৬’শ টাকা টিকতো। বর্তমানে দিনে তাদেরকে ৮-৯ বার নদী পারি দিতে হচ্ছে । এতে প্রতি নৌকার মাঝিদের ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা লাভ টিকছে। নৌকার সংখ্যাও বেড়ে গেছে, যেমনটা বেড়ে গেছে মানুষের আসা-যাওয়ার সংখ্যা।
মুদাফৎ কালিকাপুর এলাকার ইমদাদুল হক (১৭),রাজীবপুর উপজেলার শিকারপুর গ্রামের আবু আসাদ (২১), থানাহাট ইউনিয়নের নয়াবাড়ী গ্রামের নুরুজ্জামান (৫০),মুদাফৎ কালিকাপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম (৩৯),একই গ্রামের মোছাঃ আছিয়া (৩৫), রমনা ইউনিয়নের চর পাত্রখাতা গ্রামের ছালমা বেগম (৩২), একই গ্রামের মোছাঃ ময়ফুল (৩৩), রৌমারী উপজেলার টাপুরচর এলাকার আব্দুল ছাত্তার (৬৪),একই গ্রামের মোজাম্মেল (৪০),রৌমারী উপজেলার তালুকার চর গ্রামের আবুল কাশেম (৩৫) ও কোদালকাটি গ্রামের এমদাদুল হক (৬০) এর সাথে কথা বলে জানাগেছে,তারা কেউ কেউ পেটের অসুখ, মাথা ব্যাথা,বুকের ব্যাথা, চোখের সমস্যা ও পক্ষাঘাত রোগে ভোগছিল। অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন শিশুটির পানি ও তেল পড়া ও ঝার ফু’র মাধ্যমে বর্তমানে সুস্থ্য হয়ে গেছে।
অনেকে আবার শিশুটির অলৌকিক ক্ষমতা সর্ম্পকে সন্দিহান। তাদের ধারনা এটা পয়সা রোজগারের জন্য এক ধরনের ফাঁদ পাতা হয়েছে। এ ব্যাপারে অষ্টমীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ সোহরাব হোসেনের মুখোমুখি হলে তিনি জানান, ঝার-ফু, পানি পড়া ও তেল পড়ার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড  বন্ধ করার জন্য তার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে ইতোমধ্যে নোটিশ প্রদান করা হলেও, লোকজন কোনও কথা শুনছে না ও মানছেনা। তারা উপকার পাচ্ছে দাবী করে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ ভীর জমাচ্ছে শিশুটির বাড়ীতে।
মোঃ ফজলুল হক
চিলমারী,কুড়িগ্রাম
০১৭১১-৪১৪৫৭৫