রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১২

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে চিলমারীতে গন বিক্ষোভ


চিলমারী সংবাদঃ

গোলাম আজম, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধাপরাধে আটক ব্যাক্তিদের সহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের ফাসিঁর দাবিতে শনিবার কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চিলমারী শাখা, সকল অঙ্গসংগঠন, ১৪দল ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্দ্যেগে গন বিক্ষোভ ও সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় সমাবেশে ও গণ মিছিলে বিভিন্ন পেশার শতশত লোকজন যোগদেন। গন বিক্ষোভটি সকাল ১১টায় আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে উপজেলা প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে দলীয় কার্যলয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ চিলমারী সভাপতি মোঃ শওকত আলী সরকার(বীর বিক্রম), উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক মোঃ আঃ কুদ্দুস সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, যুগ্ন সম্পাদক নিপেন্দ্রনাথ অধিকারী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মহশিন আলী, অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, অধ্যক্ষ মোঃ জাকির হোসেন, অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ শাখার সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মোঃ ফুয়াদ হাসান মুরাদ, গনতান্ত্রিক পাটির সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম, ছাত্রলীগ সভাপতি মাইদুল ইসলাম প্রমুখ।

মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১২

চিলমারীতে হরতাল সমর্থনকারীদের সড়ক অবরোধ, মহড়া ও সমাবেশ


চিলমারী সংবাদঃ


কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ, মহড়া ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি।
হরতাল সমর্থকারীরা ভোর থেকেই বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেয়া শুরু করে এসময় চিলমারী-কুড়িগ্রাম সড়কে ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ন মোড় গুলোতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কারীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।
পরে আঃ মতিন সরকার শিরিনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ কারীরা উপজেলার বিভিন্ন সড়কে মহড়া দেয়।
মহড়া শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপজেলা বিএনপির স্থগিত কমিটির সভাপতি মোঃ হামিদুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারন সম্পাদক মোঃ সাহেব আলী, যুবদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য আঃ মতিন সরকার শিরিন, কেন্দ্রীয় কমিটি কতৃক সুপারিশ কৃত যুবদলের সহ-সভাপতি তাইবুর রহমান, জিয়াউল কবির বাপ্পি, সাধারন সম্পাদক আবু সাঈদ হোসেন পাখি, যুবনেতা রফিকুল, আমজাদ প্রমুখ।
অপর দিকে হরতাল চলাকালীন শহরে দোকান পাঠ ও যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপজেলা বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেয় ও পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয় এরিপোট লেখা পর্যন্ত কোথায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি

বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১২

চিলমারীতে বাঁশ ও বেতের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত

চিলমারী সংবাদঃ

পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর অর্থায়নে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে মঙ্গা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ (সংযোগ) কর্মসূচীর আওতায় বাঁশ ও বেতের কাজ বিষয়ক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়েছে। থানাহাট ইউনিয়ন সমাজ কল্যাণ সংস্থার হলরুমে আরডিআরএস বাংলাদেশের চিলমারী এলাকা ব্যবস্থাপক মোঃ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রকল্প ব্যবস্থাপক এস,এম আলমাস, আইজিএ অফিসার মোঃ শাহীন মিঞা, বহরেরভিটা শাখা ব্যবস্থাপক শেফালী বেগম, প্রশিক্ষক আলমগীর হোসেন, সাংবাদিক এস, এম নুরুল আমিন সরকার, প্রভাষক জিয়াউর রহমান জিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। গত ১১ নভেম্বর ২০১২ তারিখে ১২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়। পরে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদেরকে জনপ্রতি ২ হাজার ৬‘শ ৪০ টাকা করে প্রদান করা হয়।

শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১২

চিলমারীতে অলৌকিক ক্ষমতাধর এক শিশুর আর্বিভাব রোগ মুক্তির আশায় হাজার হাজার মানুষ ছুটছে তার কাছে

চিলমারী সংবাদঃ
অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী সাড়ে তিন বছরের শিশুটিকে নিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে কৌতুহল বেড়েই চলেছে। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ রোগ মুক্তির আশায় ছুটে আসছে শিশিুটির কাছে। রোগীদের অনেকেরই দাবী শিশুটির দেওয়া পড়া পানি ও তেল এবং ঝার- ফু’কে দীর্ঘ দিনের পুরাতন অসুখ থেকে তাদের মুক্তি মিলছে। ঘটনাটি ঘটছে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মুদাফৎ কালিকাপুর হাজীপাড়া গ্রামে।
শিশুটির মা মোছাঃ সুন্দরী বেগমের (২৮) দাবী সুমন জন্ম সূত্রেই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। পিতা সাইদুর রহমান জানান, তাদের আদি নিবাস ছিল চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের মুদাফৎকালিকাপুর হাজীপাড়া গ্রামে। গত বছর নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামে তার মামার বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানেই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী শিশুপুত্র সুমনের জন্ম হয় । সুমনের মা জানায়, শিশুটির বয়স যখন ৪০ দিন, তখন হঠাৎ তাকে আল্লাহ্‌   আল্লাহ্‌ বলে জেকের করতে দেখে অবাক হয় সে। এর এক বছর পর সুমন যখন কথা বলতে শেখে তখনই প্রথম সে পানি পড়া, তেল পড়া ও ঝার-ফু দিয়ে তার মা এবং অসুস্থ্য ফুফুকে সুস্থ্য করে তোলে। এর পর পরই শিশুটির অলৌকিক ক্ষমতার কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পরে । দূর -দূরান্ত থেকে অসুস্থ্য লোকজন শিশুটির নিকট আসতে থাকে। এই সুযোগে উক্ত এলাকার একটি মহল অলৌকিক শিশু ও তার হত দরিদ্র পরিবারটিকে ঘিরে এক ধরনের ব্যবসা পেতে বসে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হলে,কুড়িগ্রাম পুলিশ প্রশাসনের পÿ থেকে শিশুটি ও তার পরিবারকে তাদের আদি নিবাস চিলমারীতে পাঠিয়ে দেয়।
রৌমারী,রাজীবপুর,জামালপুর,চিলমারী,উলিপুর,রাজারহাট,নাগেশ্বরী,ফুলবারী,ভ‚রুঙ্গামারীসহ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা ছুটে আসছে শিশুটি’র কাছে। সরেজমিনে গিয়ে দূর দূরান্ত থেকে আগত রোগীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, অলৌকিক ÿমতা সম্পন্ন শিশু সুমন শুধু পানি পড়া, সরিষার তেল পড়া আর ঝার-ফু দেয়। এর বিনিময়ে সে কোনও পারিশ্রমিক কিংবা টাকা পয়সা নেয় না। গ্রামবাসীরা স্থানীয় মসজিদ ও মোক্তবের উন্নয়নের জন্য একটি দান বাক্্র বসিয়ে দিয়েছে। আগত লোকজন খুশি হয়ে সেখানে যা দান করে সেটাই আর্থিক সংগ্রহ। আর্থিক সংগ্রহ যাই হোকনা কেন, শিশুটিকে ঘিরে অনেক মানুষের আয়ের পথ সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যন্ত এই চরাঞ্চলে এখন হোটেল ,পানের দোকান সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। শিশুরা দূর দূরান্ত থেকে আগত মানুষের মাঝে বিক্রি করছে তেল ও পানির বোতল। জানাগেছে, দিনে ১’শ টি তেলের বোতল বিক্রি করতে পারলে তাদের ৩০০/- টাকা লাভ হচ্ছে। অপরদিকে রমনা নৌঘাট থেকে দিনে মাত্র দু’টি নৌকা অষ্টমীরচর আসতো। তাতে নৌকার মাঝিদের খরচ বাদ দিয়ে ৫ /৬’শ টাকা টিকতো। বর্তমানে দিনে তাদেরকে ৮-৯ বার নদী পারি দিতে হচ্ছে । এতে প্রতি নৌকার মাঝিদের ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা লাভ টিকছে। নৌকার সংখ্যাও বেড়ে গেছে, যেমনটা বেড়ে গেছে মানুষের আসা-যাওয়ার সংখ্যা।
মুদাফৎ কালিকাপুর এলাকার ইমদাদুল হক (১৭),রাজীবপুর উপজেলার শিকারপুর গ্রামের আবু আসাদ (২১), থানাহাট ইউনিয়নের নয়াবাড়ী গ্রামের নুরুজ্জামান (৫০),মুদাফৎ কালিকাপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম (৩৯),একই গ্রামের মোছাঃ আছিয়া (৩৫), রমনা ইউনিয়নের চর পাত্রখাতা গ্রামের ছালমা বেগম (৩২), একই গ্রামের মোছাঃ ময়ফুল (৩৩), রৌমারী উপজেলার টাপুরচর এলাকার আব্দুল ছাত্তার (৬৪),একই গ্রামের মোজাম্মেল (৪০),রৌমারী উপজেলার তালুকার চর গ্রামের আবুল কাশেম (৩৫) ও কোদালকাটি গ্রামের এমদাদুল হক (৬০) এর সাথে কথা বলে জানাগেছে,তারা কেউ কেউ পেটের অসুখ, মাথা ব্যাথা,বুকের ব্যাথা, চোখের সমস্যা ও পক্ষাঘাত রোগে ভোগছিল। অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন শিশুটির পানি ও তেল পড়া ও ঝার ফু’র মাধ্যমে বর্তমানে সুস্থ্য হয়ে গেছে।
অনেকে আবার শিশুটির অলৌকিক ক্ষমতা সর্ম্পকে সন্দিহান। তাদের ধারনা এটা পয়সা রোজগারের জন্য এক ধরনের ফাঁদ পাতা হয়েছে। এ ব্যাপারে অষ্টমীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ সোহরাব হোসেনের মুখোমুখি হলে তিনি জানান, ঝার-ফু, পানি পড়া ও তেল পড়ার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড  বন্ধ করার জন্য তার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে ইতোমধ্যে নোটিশ প্রদান করা হলেও, লোকজন কোনও কথা শুনছে না ও মানছেনা। তারা উপকার পাচ্ছে দাবী করে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ ভীর জমাচ্ছে শিশুটির বাড়ীতে।
মোঃ ফজলুল হক
চিলমারী,কুড়িগ্রাম
০১৭১১-৪১৪৫৭৫

সোমবার, ৫ নভেম্বর, ২০১২

পেটের ভোকে ভিক্ষা করং-বাঁচা তো নাইগবে…


পেটের ভোকে ভিক্ষা করং-বাঁচা তো নাইগবে… thumbnail

সাওরাত হোসেন সোহেল:
সমাজের ভূমিহীন ও বিত্তহীন এবং বার্ধক্যজনিত কারনে শারীরিক পরিশ্রমে অক্ষম হলেও সরকারী কোন ভাতা মেলেনি থানাহাট ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কিসামতবানু এলাকার বাসিন্দা তফিরন বেওয়ার ( ৯০)। তফিরন বেওয়াদের দাম নেই জনপ্রতিনিধিদের কাছে। শুধু দাম বাড়ে ভোটে। তাই সরকারী কোন ভাতা মেলেনি তার। দারিদ্রতা ও রোগ- শোকের কাছে হার মানা তফিরন বেওয়ার বয়সের ছাপ যেন বলছে, ‘আর কত বয়স হলে সরকারী ভাতা মেলে’? পেটের দায়ে নুইয়ে পড়া শরীরে হাতে লাটির ভর করে অসুস্থ শরীর নিয়ে চলতে হচ্ছে অন্যের দ্বারে দ্বারে; এক মুঠো ভীক্ষে পেতে। জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে মেলেনি সরকারী ভাতা।
নিষ্টুর নিয়তীর কাছে হার মানা তফিরন বেওয়া স্বামী শখের আলীকে হারিয়েছেন প্রায় ৩৫ বছর আগে। স্বামীকে হারিয়ে নানা প্রতিকূলতার মাঝে অন্যের বাড়িতে কাজ করে একমাত্র সন্তানকে ঘিরে নিজের সুখ আহলাদ ভুলে সংগ্রামী জীবন মুখী। অর্থনৈতিক দৈন্যদশার কাছে হার মানা তফিরন বেওয়া একমাত্র ছেলেকে শিক্ষা-দ্বীক্ষায় উপযুক্ত করতে না পারলেও ছেলেকে বিপথে যেতে দেননি। এর পর ছেলেকে বিয়ে দিয়ে ছেলের বউ ঘরে আনেন। ভেবেছিলেন এবার হয়তো তার মুক্তি হবে জীবন নামের সংগ্রামশীলতা থেকে। কিছুদিন কাঁটে ছেলের সংসারে। নিষ্ঠুর নিয়তি এবারও তার সাথে পরিহাস করে। সংসারের একমাত্র কর্মক্ষম ছেলে নিজেই হয়ে জান পরনির্ভরশীল। প্যারালাইসিস রোগি হয়ে কাটাতে হচ্ছে বিছানায় শুয়ে শুয়ে, অন্যের করুণার পাত্র হয়ে। স্ত্রী, কন্যা ও দুই ছেলেকে  নিয়ে পরে যায় বিপাকে। কর্মক্ষমতা হারিয়ে দারিদ্র্যের নির্মম কশাঘাতে পিষ্ট হয়ে করতে হচ্ছে মানবেতর জীবন যাপন। আর এই নিষ্ঠুর নির্মমতায় কাটাতে হয় তফিরন বেওয়াকে। ছেলের সংসারে জোটে না তার এক মুঠো আহার। তাই আবার নামতে হয়েছে তফিরন বেওয়াকে জীবন নামের সংগ্রামে। এক মুঠো আহারের খোঁজে। কিন্তু বাস্তবতার কাছে হার মানা তফিরন বেওয়া বয়সের ভার আর রোগ-শোকে জর্জরিত কর্মমূখীতায় নয় পাড়া-পড়শির দ্বারে দ্বারে ভিক্ষে চেয়ে।
কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে মেলেনি কোন সরকারী ভাতা। জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাম নেই তকিরন বেওয়াদের। কেবলই দাম বাড়ে ভোটে। যে জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় তকিরন বেওয়াদের কাছে ভোট ভিক্ষা প্রার্থনা করে ভোট শেষে তাদেরই কাছে কোন দাম নেই। তাই সরকারী কোন ভাতায় ঠাই মেলেনি তফিরন বেওয়ার।
সরকারী কোন ভাতা পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তফিরন বেওয়া জানায়- হামার টেকা নাই ধরাইয়া নাই হামাক গুলেক কি কার্ড দেয়! মেম্বাররা খালি আশা দেয়, কয় দেম দেম, কোন দিন দিবে তাক কয় না। পেটের ভোকে ভিক্ষে করবের যাওয়া নাগে, নাতে খাইম কি? বেশিক্ষন হাইটপের পাংনা টলি পরং। তাতো যাওয়া নাগে পেট তো আর মানে না। কোন দিন মেম্বার হামাক দেকপের আইসে না ভোটের আগে সবাই আইসে এখন হামাক যাওয়া নাগে।

বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর, ২০১২

দুরপাল্লার বাস ও মিনিবাসের স্থায়ী টার্মিনালের দাবিতে চিলমারীতে মানববন্ধন

দুরপাল্লার বাস ও মিনিবাসের স্থায়ী টার্মিনালের দাবিতে চিলমারীতে মানববন্ধন thumbnail
চিলমারী সংবাদঃ 

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাসের স্থায়ী টার্মিনালের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  চিলমারী সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্তরের সামনে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে মটর শ্রমিক ইউনিয়ন, চিলমারী এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একাত্বতা ঘোষনা করে।
সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মমিনুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা এম উমর ফারুকের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন চিলমারী প্রেস কাবের উপদেষ্টা সদস্য আমজাদ হোসেন, সাধারন সম্পাদক শ্যামল কুমার বম্মর্ন, মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আঃ রহিম, লোড আনলোড ইউনিয়নের সভাপতি বাদশা আলমগীর, সাধারন সম্পাদক মুকুল মিয়া, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুল হক, চিলমারী প্রেস এ্যাসোসিয়েশন সাধারন সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সহ-সাধারন সম্পাদক মনিরুল আলম লিটু, সাংবাদিক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রভাষক মামুন-অর-রশিদ, সাধারন সম্পাদক মোঃ সাওরাত হোসেন সোহেল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন সময়ের ব্যবধানে সরকারের পরিবর্তন আসে কিন্তু চিলমারীবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন আসেনি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চিলমারীতে স্থায়ী টার্মিনাল না হলে লাগাতার কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে।

শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১২

২৭অক্টোবর ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের ১১১তম জন্মদিন

আজ ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের ১১১তম জন্মদিন thumbnail
২৭অক্টোবর ছিল ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের ১১১তম জন্মদিন। তার স্মৃতিধন্য কুড়িগ্রামের মানুষ আজও তাকে আর ভাওয়াইয়াকে লালন করছে আপন ভালোবাসায়। শুধু সংগীত চর্চা করা হলেও তার স্মৃতিচিহৃগুলো সংরক্ষনের তেমন কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।
আব্বাস উদ্দিন আহমদ ১৯০১ সালের ২৭ অক্টোবর ভারতের কুচবিহার রাজ্যের বলরামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা জাফর আলী আহমদ ছিলেন আইনজীবি। বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী। কিন্তু সবকিছু ছেড়ে আব্বাস উদ্দিন ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্থান বিভক্তির দিনই ভারতের কোলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। যিনি স্বপ্ন দেখতেন স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের। যে জন্য তিনি জীবনের সোনালী সময় ব্যায় করেছেন, মানুষকে স্বাধীনভাবে বাঁচতে উদ্বুদ্ধ করেছেন গানে গানে। তিনি চলে আসেন স্বাধীন রাষ্ট্রে-সকল ধনসম্পদ ত্যাগ করে শূণ্যহাতে স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে। ঢাকায় স্থায়ী হয়েই তিনি এ দেশের মানুষকে গানের দিকে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরে ঘুরে সংগীত চর্চা কেন্দ্র খোলার ব্যবস্থা করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাংস্কৃতিক সমাবেশসহ নানা অনুষ্ঠানে ভাওয়াইয়াকে পৌছে দিয়েছেন ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিন।
এক রকমের পৃষ্টপোষকতা ছাড়াই কুড়িগ্রাম অঞ্চলের প্রাণের গান ভাওয়াইয়া এখনো সমৃদ্ধ। তাই এই গানকে টিকিয়ে রাখতে সরকারী-বেসরকারী সহযোগিতা প্রয়োজন। তবেই ভাওয়াইয়া আরও সমৃদ্ধ হবে, ছড়িয়ে যাবে সারা বিশ্বে।
আব্বাসউদ্দিনই প্রথম ভাওয়াইয়াকে রেকর্ড করে সকলের সামনে উপস্থাপন করেন। তার প্রথম রেকর্ডকৃতগান হলো- ‘ওকি গাড়য়াল ভাই কত রব আমি পন্থের দিকে চায়া রে…’ এবং ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে…’।
সেই সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় গান গেয়ে বাঙালিদের উদ্বুদ্ধ করতেন। গাইতেন ‘ওঠরে চাষী জগৎবাসী, ধর কষে লাঙল’। শুধু ভাওয়াইয়া গানই নয় তিনি বাংলা ইসলামী গানেরও স্রষ্ঠা। কাজি নজরুল ইসলামকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছিলেন বাংলা ইসলামিক গজল। আজও সকলের কন্ঠে ওঠে ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। এ ছাড়াও উর্দু, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, দেহতত্ব, মার্সিয়া, পালাগান গেয়েছেন। শুধু গানই নয় আব্বাস উদ্দিন ৪টি সিনেমায় অংশ নেন। সিনেমাগুলো হলো ‘বিষ্ণমায়’ (১৯৩২), ‘মহানিশা’ (১৯৩৬), ‘একটি কথা’ এবং ‘ঠিকাদার’ (১৯৪০)।
ভাওয়াইয় সম্রাট আব্বাস উদ্দিন স্মরণে কুড়িগ্রামে চলছে ব্যাপক আয়োজন। এ উপলে আজ বাংলাদেশ  ভাওয়াইয়া একাডেমী, ভাওয়াইয়ার আসর ও বাংলাগানের দল মেঠোজন আয়োজন করেছে পৃথক কর্মসূচি।

শনিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১২

বাহাদুর হত্যাকান্ড:পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে চিলমারীতে বিক্ষোভ মিছিল


বাহাদুর হত্যাকান্ড:পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে চিলমারীতে বিক্ষোভ মিছিল thumbnail

চিলমারী সংবাদঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে এলাকাবাসী নিহত ছাত্রলীগ নেতা বাহাদুরের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
শনিবার সকালে খুনিদের গ্রেফতারের দাবীতে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জমায়েত হলে স্থানীয় পুলিশ তাদেরকে বাধা দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পরবর্তীতে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী দুপুর ১টায় পুনরায় একত্রিত হয়ে নিহত বাহাদুরের বাড়ি সংলগ্ন সংযোগ সড়কে একটি বিশাল মানব বন্ধন করে। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলিটি উপজেলার গুরুত্বপুর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে বাহাদুরের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের এক পক্ষের হামলায় মারাতœকভাবে আহত ছাত্রলীগ নেতা বাহাদুর ৪ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার সময় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

শুক্রবার, ৫ অক্টোবর, ২০১২

শুদ্ধ জাতীয় সংগীত প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত


চিলমারী সংবাদঃ 

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে শুদ্ধ জাতীয় সংগীত প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে প্রতিটি উপজেলায় শুদ্ধ জাতীয় সংগীত প্রশিক্ষণ কর্মশালার অংশ হিসেবে  বুধবার সকালে চিলমারী উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে শুদ্ধ জাতীয় সংগীত প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শামছুল আলম, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অধ্য রাশেদুজ্জামান বাবু উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। প্রশিক্ষণে প্রতিটি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩জন করে শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

বুধবার, ৩ অক্টোবর, ২০১২

কোচিং বাণিজ্য বন্ধে চিলমারীতে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

চিলমারী সংবাদঃ 
শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের কারণে আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতি অনেকটা কমে গেছে। কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত বুধবার দুপুরে চিলমারী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কোচিং বাণিজ্য বন্ধে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান, জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুল আলম, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ রাশেদুজ্জামান বাবু, থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব এ, কে, এম নুর-ইসলাম বাদশাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মতবিনিময় সভায় উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

চিলমারীতে তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে কমিউনিটি রেডিও‘র ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

চিলমারী সংবাদঃ 
১০তম আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস/২০১২ উদযাপন উপলক্ষ্যে তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে কমিউনিটি রেডিও‘র ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় আরডিআরডিএস বাংলাদেশ চিলমারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রেডিও চিলমারীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।
ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড ও বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) এর সহায়তায় রেডিও চিলমারীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও গোলাম হাবিব মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। অন্যান্যের বক্তব্য রাখেন, চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ লুৎফর রহমান, সাংবাদিক ও নাট্যকার নাজমুল হুদা পারভেজ, রেডিও চিলমারীর স্টেশন ইনচার্জ বশির আহমেদ, চিলমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইনসলাম সাবু, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার বর্ম্মণ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম, থানাহাট ইউনিয়ন সমাজ কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াজেদ আলী, প্রবীন সাংবাদিক এম, এ, আই লালমিঞা, নারী নেত্রী মোছাঃ মালেকা বেগম প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেডিও চিলমারীর উন্নয়ন সংবাদ সম্পাদক সাংবাদিক এস, এম নুরুল আমিন সরকার। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বিএনএনআরসির প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম খান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম বলেন, তথ্য চাওয়া এবং পাওয়া সকল মানুষের নাগরিক অধিকার। কোথায় গেলে কোন তথ্য পাওয়া যাবে, তা জনসাধারণকে জানাতে পারে রেডিও চিলমারী। রেডিও চিলমারী এই অঞ্চলের গণমানুষের তথ্য প্রবাহের বলিষ্ট মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সেমিনারে রেডিও চিলমারীর উপদেষ্টা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক ও স্রোতা ক্লাবের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

চিলমারীতে প্রাথমিক শিক্ষার উপর তথ্য প্রদান বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

চিলমারী সংবাদঃ
চিলমারীতে প্রাথমিক শিক্ষার উপর তথ্য প্রদান বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকালে চিলমারী উপজেলা শিক্ষক মিলনায়তনে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা  প্লান বাংলাদেশের সহযোগিত ও ইএসডিও এর উদ্যোগে উপজেলা শিক্ষক মিলনাতনে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সম্ভু চরন দাসের সভাপতিত্বে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মোবাশ্বের আলম ও ইএসডিও এর সেক্টর কো-অর্ডিনেটর নির্মল মজুমাদার প্রমুখ। কর্মশালায় জানানো হয়, চিলমারী উপজেলার ৭৪টি পও্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ হাজার ২‘শ ৭৬ জন শিক্ষার্থীকে রং পেন্সিল, খাতা, কলম, পেন্সিল, সাপনার ই- রেজার, ঢুটবল, স্কিপিং ও লুডু প্রদান হরা হবে।

চিলমারীতে উদ্দীপনের সেলাই প্রশিক্ষণ সমাপ্ত

চিলমার সংবাদঃ 
 চিলমারীতে উদ্দীপনের সেলাই প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়েছে। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর অর্থায়নে মঙ্গা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ (সংযোগ) কর্মসূচীর আওতায় হতদরিদ্রদের আত্ম কর্মসংস্থানমূলক কর্মসূচীর অংশ হিসেবে মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণের সমাপনি অনুষ্ঠান আজ সকালে উদ্দীপন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ শাহজামাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান, বিশেষ অতিথি হিসেবে চিলমারী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এস, এম নুরুল আমিন সরকার বক্তব্য রাখেন। পরে মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী ২৫ জনের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

কোনটি ঠিক ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ নাকি ‘অর্ধেক তোমার অর্ধেক হামার’


সাওরাত হোসেন সোহেলঃ


‘একটি বাড়ি একটি খামার’ এই শ্লোগান এখন বদলে হয়েছে ‘অর্ধেক তোমার অর্ধেক হামার!’ চিলমারী উপজেলার পিছিয়ে পড়া হত- দরিদ্র জনগোষ্ঠী খানা মানদন্ড অনুযায়ী (গ্রামের দরিদ্র নারী যিনি খানা প্রধান, শুধু বসত ভিটা আছে এমন খানা, ভিটে বাড়ি সহ ৫০ শতক জমি আছে এমন ব্যক্তি যার নিয়মিত আয়ের উৎস নেই) ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পে অন্তভুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও তালিকা জুড়ে নাম রয়েছে প্রভাবশালীদের। সব মিলে দুর্নীতির বীজ দিয়ে যেন শুরু হয়েছে এই প্রকল্পের কাজ।
মহাজোট সরকার প্রধান ঘোষিত একটি বাড়ী একটি খামার”-প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মানুষের উন্নয়নের লক্ষে প্রথম পর্যায়ে থানাহাট, রমনা মডেল, রানীগঞ্জ ও চিলমারী মোট ৪টি ইউনিয়নের ৩৬টি দল গঠন করে প্রতিটি দলে ৬০জন করে নেওয়া হয়। ২ হাজার ১ শত ৬০ বাড়ী অন্তরর্ভুক্ত করে কাজ শুরু করলেও, লুঠে-পুঠে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নাম ধারী দলীয় নেতা/কর্মী ও কিছু প্রাভাবশালীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রভাবে মেম্বার, চেয়ারম্যান, প্রকল্প বাস্তুবায়নকারী বিআরডিবি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনিয়ম ও দুর্নীতির ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না প্রকল্প আওতায় সুবিধাভোগী মানুষগুলো। ফলে প্রকল্পের মূল ল্য অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
অফিস সুত্রে জানা গেছে, ইতি মধ্যে দালালী পাড়া দলে ২লাখ ২০ হাজার, কড়াই বরিশাল গ্রামে ১লাখ ২০ হাজার, ঢুষ মারা গ্রামে ১লাখ ২০ হাজার, শাখাহাতি গ্রামে ১লাখ ৮৬ হাজার মনতোলা গ্রামে ১লাখ ২০ হাজার টাকা সহ ২৬দলে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার সল্প সুদে ঋণ বিতরন করা হয়েছে। বাকি রয়েছে ১০টি দল। এ দলগুলো দেখা শুনার দায়িত্বে রয়েছে বিআরডিপি’র সমন্নয় কারী সিরাজুল ইসলাম (অতিঃ দাঃ), অফিস সহকারী নাজমুন নাহার, মাঠকর্মী আহসান হাবিব।
কয়েকটি দলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দায়িত্ব প্রাপ্তরা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে কিছু প্রাভাবশালীদের সহযোগীতায় বিভিন্ন দল থেকে সরকারী নিয়ম-নীতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করে আসছে। এই ঋণ দেওয়ার ওজুহাতে নতুন সদস্য ভর্তির কথা বলে দায়িত্বপ্রাপ্তরা ও বিভিন্ন দলের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক অফিসের কথা বলে নতুন ও পুরাতন সদস্যদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১৫০০/= টাকা পর্যন্ত উৎকোচ গ্রহন করেছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
রমনা খামার এলাকার আঃ রহিম জানায় সে এবারে নতুন সদস্য হওয়ার সময় ১৫০০ টাকা নিয়েছে দলের ম্যানেজার। মাছাবান্দা দলের জমিলা জানায়, নাম নেওয়ার সময় মশিউর মেম্বার ৩হাজার টাকা নিয়েছে আরো টাকা চেয়েছিল গরু দিবের কথা বলে না দিতে পারায় ১২টি গাছ দিয়েছিল সেগুলোও সব মরে গেছে। একই এলাকার রোজিনা, জোবেদা সহ কয়েক জন জানান, অফিসের কথা বলে তাদেরও কাছ থেকে মেম্বার ৩ হাজার টাকা নিয়েছে।
বিভিন্ন দল ও এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মেম্বার ও এই প্রকল্পের দায়িত্ব প্রাপ্তরা অফিসের কথা বলে বিভিন্ন সময় নানান অজুহাত দেখিয়ে সদস্যদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহন করেছে।
দল থেকে বের হয়ে আসা ফকির পাড়া এলাকার জহর উদ্দিন জানান, এ কথা আর কন না বাহে একটি বাড়ি একটি খামার মানে ‘অর্ধেক হামার অর্ধেক তোমার’। হামরা কি আর পাই সব অফিসার আর দায়িত্বে যামরা আছে তামরায় পায়।
অভিযুক্ত থানাহাট ইউনিয়নের ৯নং ওয়াডের মেম্বার মশিউর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এটা তো অনেকদিন আগের কথা অন্যরাতো ৫হাজার থেকে ১০হাজার টাকা নিয়েছে সুবিধাভুগীদের কাছে সেটা দেখননা। কিন্তু দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী, সমন্নয়ককারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ঢাকায় আছে বলে জানান।
এ ব্যাপারে আরডিও মোঃ সামজিদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এর আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন সেই সময় দল হয়েছে ২০টি সেই সময় কিছু দুর্নীতি হয়েছে। আর আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর দল হয়েছে ১৬টি এগুলোর কোন দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
পরে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান জানান, আমি এখনো কোন অভিযোগ পায়নি পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সুত্রঃ http://www.kurigramnews.net 

রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২

মাধুর্যকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

চিলমারী সংবাদঃ
 চিলমারী শিশু নিকেতনের শিশু শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া কবির মাধুর্য (৬) মরণ ব্যাধি ব্লাড ক্যান্সার (একুইড ল্যাম্প প্লাষ্টিক লিউকামিয়া) রোগে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হাসি-খুশি নিস্পাপ মুখটি দিন দিন মলিন হয়ে আসছে। বর্তমানে সে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি এন্ড এনপোলজি বিভাগে পি-৪ বেডে ডাঃ প্রফেসর ইয়াকুব জামানের অধীনে চিকিৎসারত রয়েছে। দূরারোগ্য এই ব্যধির চিকিৎসার জন্য ১২ লাখ টাকার প্রয়োজন, যা মাধুর্যের বাবা হুমায়ুন কবীর বা তার পরিবারের নেই। তাই মাধুর্যের বাবা ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল ভাই- বোন, সমাজ হিতৈষী, পরোপকারী, দরদী জনের নিকট আর্থিক সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। মাধুর্যের বাবা হুমায়ুন কবীর চিলমারী মহিলা ডিগ্রী কলেজের একজন প্রদর্শক ও দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকার চিলমারী প্রতিনিধি। মাধুর্যকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। আপনার এতটুকুও সাহায্যের পরশে নিশ্চয়ই করুণাময় নিস্পাপ, বিধাতার হাসি, অবোধ শিশু মাধুর্যকে বাঁচিয়ে তুলতে পারে। মানবিক এ আবেদনে আসুন একটি নিস্পাপ শিশু, ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ফুলের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসি। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- মোঃ হুমায়ুন কবীর, সঞ্চয়ী হিসাব নং- ৫৭০৩/২৮, সোনালী ব্যাংক লিঃ চিলমারী শাখা, কুড়িগ্রাম।

রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২

সিপিএ এর অভিষেক অনুষ্ঠানে চিলমারীর ৫ প্রবীণ সাংবাদিক সংবর্ধিত


চিলমারী সংবাদঃ 
গত রবিবার কুড়িগ্রামের চিলমারীতে নবগঠিত চিলমারী প্রেস এসোসিয়েশন (সিপিএ) এর কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে স্থানীয় পাঁচজন প্রবীণ সাংবাদিককে সংবর্ধিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সফি খান।
সকাল ১১টায় চিলমারী উপজেলা সভা কক্ষে আয়োজিত চিলমারী প্রেস এসোসিয়েশন (সিপিএ) এর কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোঃ ফজলুল হক। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিলমারী  উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম। এছাড়াও বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান, চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ লুৎফর রহমান, উত্তরাঞ্চল ফেডারেল সাংবাদিক পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অলক সরকার, চিলমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি গাজী নজরুল ইসলাম সাবু, সিপিএ’র সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক জিয়াউর রহমান জিয়া, চিলমারী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার বর্ম্মণ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাহফুজার রহমান মঞ্জু, অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক, সাপ্তাহিক জনপ্রাণের প্রকাশক আবু হানিফা, এ্যাডভোকেট এস, এম জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক অনিরুদ্ধ রেজা, সিডিডিএফ’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ লুৎফর রহমান ও শিশু নিকেতন চিলমারীর অধ্যক্ষ আবুল কাশেম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সিপিএ’র কার্যর্নিবাহী পরিষদের সদস্যদের পরিচিতি ও অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে স্থানীয় ৫জন প্রবীণ সাংবাদিককে প্রয়াত সাংবাদিক মাওলানা রুহুল আমীন স্মৃতি পদক দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। সংবর্ধিত সাংবাদিকরা হলেন, দৈনিক সমকালের চিলমারী প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হুদা পারভেজ, অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান (দৈনিক অর্থনীতি), মোঃ আমজাদ হোসেন (সাপ্তাহিক জনপ্রাণ), এম,এ,আই লালমিঞা (দৈনিক কুড়িগ্রাম খবর) ও এস, এম নুরুল আমিন সরকার (দৈনিক সংবাদ ও দৈনিক আজকালের খবর)

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১২

চিলমারীতে ওয়াটসান সেবা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সাথে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত

চিলমারী সংবাদঃ 
চিলমারীতে এনজি ফোরামের উদ্যোগে প্রমোশন অব ওয়াটার সাপ্লাই স্যানিটেশন এন্ড হাইজিন ইন হার্ড টু-রিচ এরিয়াস অব রুরাল বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় দূর্গম ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় ওয়াটসান সেবা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সাথে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে দু‘দিন ব্যাপী মুক্ত আলোচনা সভার শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান। উদ্বোধনী সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এনজিও ফোরাম, ঢাকার সিনিয়র এ্যাডভোকেসী অফিসার, দীপক কুমার সাহা, এনজিও ফোরাম রংপুরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহ এম, এ হাবীব, মাঠ কর্মসূচী সহায়ক এস, এম বি আনাম, মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতির সেন্ট্রাল মনিটরিংঅফিসার মোঃ মজিবুর রহমান, কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব নীলু ও চিলমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাবু।

চিলমারীতে ছাত্রলীগ নেতা হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ- মানববন্ধন


চিলমারী সংবাদঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ছাত্রলীগ নেতা রায়হানুল ইসলাম বাহাদুরের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বুধবার সকালে চিলমারী উপজেলা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। পরে চিলমারী উপজেলা পরিষদের সামনে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়ক অবরোধ করে এক ঘন্টা মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মহসিন আলী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা বেগম, ব্যবসায় গোলাম হায়দার, বাহাদুরের বাবা আতোয়ার হোসেন বাদশা, মা লাভলী বেগম, ভাই সাইফুল্লাহ আহমেদ মিলু, মামুনুর রশিদ প্রমূখ। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি ইউএনও মোহাম্মদ মামুন উল হাসানের কাছে হস্তান্তর করে বিক্ষোভকারীরা।

বক্তারা অবিলম্বে বাহাদুর হত্যাকারীদের মদদদাতাসহ খুনিদের গ্রেফতার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার এবং লাগাতার কর্মসূচি পালনের ঘোষনা দেয়।
উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের এক পক্ষের পরিকল্পিত হামলায় মারাতœকভাবে আহত ছাত্রলীগ নেতা বাহাদুর ৪ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ৫ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১২

চিলমারীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন

চিলমারী সংবাদঃ
সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘সাক্ষরতাই উন্নতি, আসবে দেশে শান্তি’- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আরডিআরএস বাংলাদেশ, ফ্রেন্ডশীপ, রিসডা বাংলাদেশ এর সহায়তায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকালে একটি র‌্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক এস, এম নুরুল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান, চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এস, আই আবু মুসা, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, থানাহাট ২নং মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মান্নান, আরডিআরএস বাংলাদেশের সামাজিক সংগঠনের সিনিয়র ম্যানেজার মোঃ আব্দুল বাতেন, রিসডা বাংলাদেশের উপজেলা কর্মসূচী সমন্বয়কারী নুরুল্লাহ ভূঁইয়া বক্তব্য রাখেন। বক্তাগণ বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে সাক্ষরতার বিকল্প নেই। সাক্ষরতা মানুষকে আলোকিত ও কর্মক্ষম করে উৎপাদনশীল মানব সম্পদে পরিণত করে। একটি আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বর্তমান সরকার ঘোষিত ‘ভিশন ২০২১’ বাস্তবায়নে শিক্ষার গুরুত্ব অত্যধিক। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে রেডিও চিলমারী বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুরের উপ-পরিচালকের চিলমারীর কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন

চিলমারী সংবাদঃ 
চিলমারীতে কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুরের উপ-পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম। গত মঙ্গলবার দুপুরে কড়াই বরিশাল নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টির পাঠদানের অনুমতি প্রদানের লক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিা অধিদপ্তর রংপুরের উপ-পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়টি পরিদর্শণ করেন। এসময় চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ সরকার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, চিলমারী নিউজ ডট কম সম্পাদক এস, এম নুরুল আমিন সরকার, চিলমারী প্রেস কাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাবু, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ সহিদুর রহমান, গয়ছল হক, আঙ্গ–র মিয়া, জাকিউল হক, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম কাজী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক মোঃ সাদাকাত হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক, শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। উপ-পরিচালক বিদ্যালয়টি পরিদর্শণকালে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, বিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শিক্ষাথী উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুমতিসহ এমপিও ভূক্ত হলে চরাঞ্চলে শিক্ষাক্ষেত্রে নবদিগন্তের সৃষ্টি হবে। 

চিলমারীতে আমন বীজতলার সংকট ॥ বৃষ্টির অভাবে খরায় পুড়ে যাচ্ছে জমিতে রোপনকৃত আমন বীজ

চিলমারী সংবাদঃ 
পরপর দু‘দফা বন্যায় আমন বীজতলার ব্যাপক তি সাধিত হওয়ায় চিলমারীতে আমন বীজতলার সংকট দেখা দিয়েছে। অপরদিকে বৃষ্টির অভাবে খরায় পুড়ে যাচ্ছে জমিতে রোপনকৃত আমন বীজ।
চিলমারী উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী এবারের বন্যায় গোটা উপজেলায় ৯‘শ ৩৮ হেক্টর জমির পাট, ২‘শ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ৩৩ হেক্টর জমির শাক সবজি এবং কাউন, চিনা, তিল ও তিশি মিলে ২‘শ ৭৩ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। টাকার অংকে এই য়তির পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৩৮ ল ১৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে শুধুমাত্র আমন বীজতলার তি হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা সমমূল্যের। অষ্টমীরচর ইউনিয়নে ৭০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, নয়ারহাট ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর এবং চিলমারী ইউনিয়নে ৩২ হেক্টর জমির আমন বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এই য়তি পুষিয়ে উঠার ল্েয উক্ত এলাকার কৃষকরা পরবর্তিতে বাড়ীর উঠান ও পতিত জমিতে পুরায় আমন বীজ বপন করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অষ্টমীরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, বন্যায় বীজতলার যে তি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার মত পর্যাপ্ত বীজতলা নেই। কৃষকরা অর্থের অভাবে দূর-দূরান্ত থেকে বীজ সংগ্রহ করতে পারছে না। এদিকে যে সকল জমিতে ইতোমধ্যে আমন বীজ রোপন করা হয়েছে, সে সকল জমি অনাবৃষ্টির কারণে তির মুখে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা স্যালো দিয়ে জমিতে পানির যোগান দিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে আমন আবাদের শুরুতেই ধান চাষের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর বন্যাত্তোর য়তি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারীভাবে আমন বীজ কৃষকদের মাঝে দেওয়া হলেও এ বছর এখন পর্যন্ত এ ধরণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

চিলমারীতে পুলিশের সাড়াঁশি অভিযান ॥ গ্রেফতার- ২

চিলমারী সংবাদঃ 
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার এর ঘোষণা অনুযায়ী কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ২৪ ঘন্টায় পুলিশ সাড়াঁশি অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ছিনতাই মামলায় দু’জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে।
গত রমজানে একজন যুবলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশের উপর ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা হামলা চালিয়ে ৩জন পুলিশকে গুরুতর আহত করে একটি সর্টগানসহ আসামী ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ অস্ত্র উদ্ধার করলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গত ২ সেপ্টেম্বর রবিবার সকালে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান চিলমারী উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ও ৩ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে পাম্পের মোড় থেকে মোঃ আক্তারুল ইসলাম (২২) এবং সবুজপাড়া মন্দিরের মোড় থেকে মোঃ নুরে আলম (২৫) কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ২ জনকে পুলিশের নিকট থেকে অস্ত্র ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২

প্রধানমন্ত্রী আগামী ২০ সেপ্টেম্বর তিস্তা সড়ক সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন- রেল মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

চিলমারী সংবাদঃ
 দীর্ঘ বার বছর পর পূরণ হতে যাচ্ছে রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমণিরহাটবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। চলতি মাসের ২০ তারিখে উন্মোচন হতে যাচ্ছে তিস্তা সড়ক সেতুর দ্বার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন উত্তরাঞ্চলের মানুষের বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা সড়ক সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। যোগাযোগ ও রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বৃহস্পতিবার নবনির্মিত তিস্তা সড়ক সেতু  সরেজমিন পরিদর্শন কালে সাংবাদিকদের একথা জানান। তিনি বলেন, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর সফরে এসে এ অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষের স্বপ্নের সেতু তিস্তা সড়ক সেতু উদ্বোধন করবেন। এই সেতু চালু হলে লাখ লাখ মানুষ পথের ঝক্কিঝামেলা ও দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাবে। সেতুর সম্পূরক কাজের মধ্যে নদী-শাসন তথা গাইড বাঁধ  নির্মাণ ও অন্যান্য কাজ শেষ না হলেও খুব শীঘ্রই তা শেষ করা হবে। পরে মন্ত্রী ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা সড়ক সেতু ঘুরে দেখেন। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১ জুলাই তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম তিস্তা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ দশমিক ১১ মিটার প্রশস্ত ও ৭৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণের কাজ বিগত সরকারের আমলে নানা কারনে বিলম্বিত হওয়ার পর বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে  তা সম্পন্ন করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২

চিলমারীতে রোপা আমন বীজতলার সংকট

চিলমারী সংবাদঃ 
পরপর দু'দফা বন্যায় আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কুড়িগ্রামের চিলমারীতে আমন বীজতলার সংকট দেখা দিয়েছে। অপরদিকে বৃষ্টির অভাবে পুড়ে যাচ্ছে জমিতে রোপণকৃত আমন বীজ।
চিলমারী কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যায় উপজেলায় ৯৩৮ হেক্টর জমির পাট, ২০০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ৩৩ হেক্টর জমির শাক-সবজি এবং কাউন, চিনা, তিল ও তিসি মিলে মোট ২৭৩ হেক্টর জমির আবাদি ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৩৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এরমধ্যে শুধু আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি টাকা সমমূল্যের। উপজেলার চরাঞ্চলীয় অষ্টমীরচর ইউনিয়নে ৭০ হেক্টর নয়ারহাট ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর এবং চিলমারী ইউনিয়নে ৩২ হেক্টর জমির আমন বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে এলাকার কৃষকরা পরে বাড়ির উঠান ও পতিত জমিতে ফের আমন বীজতলা তৈরি করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
এ ব্যাপারে অষ্টমীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন জানান, বন্যায় বীজতলার যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় বীজতলা নেই। এদিকে যেসব জমিতে ইতিমধ্যে আমন বীজ রোপণ করা হয়েছে, সেসব জমি অনাবৃষ্টির কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে পানি দিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে আমন আবাদের শুরুতেই ধান চাষের ব্যয় বেড়ে গেছে।
 

বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

চিলমারীতে পাল্টা পাল্টি হামলায় ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু: উত্তেজনা

চিলমারী সংবাদঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ছাত্র লীগের পাল্টা পাল্টি হামলায় দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ছাত্রনেতা বাহাদুর বুধবার গভীর রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। গত শনিবার দফায় দফায় চিলমারীতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে ৮জন আহত হয়। এ সময় মুমূর্ষ অবস্থায় বাহাদুরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাহাদুরের মৃত্যুতে চিলমারী উপজেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপ ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন কাজের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মুকুল গ্রুপের ছাত্র নেতা তাজিকুরসহ কয়েকজন উপজেলা অফিস চত্বর এলাকায় আসলে বিবাদমান অপর গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মীরা অতির্কিত হামলা চালায়। এতে অন্তত উভয় পক্ষের ৭জন আহত হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও তাজিকুর ইসলামের অবনতি দেখা দিলে চিলমারী হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
অপর দিকে ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক সমর্থিত ছাত্রনেতা বাহাদুরকে দুপুর ৩ঘটিকার সময় অপর গ্রুপের লোকজন এলএসডি মোড়ে ফিরোজ মেডিকেল ষ্টোরে একা পেয়ে আকস্মিক হামলা চালিয়ে মারাত্মক জখম ও আঙ্গুল কর্তন করে। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে চিলমারী হাসপাতাল এবং কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে ডাক্তাররা।
ঐ দিনেই মৃত্যু বাহাদুরের পিতা আতোয়ার হোসেন বাদশা বাদি হয়ে ১৭জনকে আসামী করে একটি মামলা ও আহত তাজিকুরের স্ত্রী জেলী বেগম বাদী হয়ে ১৯জনকে আসামী করে চিলমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অবশেষে দীর্ঘ ৪দিন ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩ঘটিকার দিকে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে ছাত্রনেতা বাহাদুরের মৃত্যু হয়। তার এই মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌছাঁনোর সাথে সাথে একদিকে যেমন উত্তেজনা বিরাজ করছে অপর দিকে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা এস আই আবু মুসা জানান, বাহাদুরের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি পোষ্টমার্টেম ও সুরুতহাল রির্পোট এলে আইনগত ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
পরে রাত ৯.০০ টায় টার নামাজে জানাজা অনুস্তিত হয়।

বুধবার, ২৯ আগস্ট, ২০১২

চিলমারীতে জমির মালিকরা খাঁজনা পরিশোধ করতে পারছেনা

চিলমারী সংবাদঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে দাখিলা বই না থাকায় ভূমি মালিকরা খাঁজনা পরিশোধ ও নাম জারি করতে না পারায় জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ কৃষি ঋণ গ্রহন করতে পারছেনা। ফলে ভেস্তে যেতে বসেছে ভূমি অফিসের কার্যক্রম।
জানা গেছে, গত দু’মাস থেকে চিলমারী উপজেলা ভূমি অফিসগুলোতে দাখিলা বই না থাকায় বিশেষ করে চরাঞ্চলের ভূমি মালিকরা নদী পাড়া পাড়  হয়ে খাঁজনা দিতে এসেও না দিয়েই ফেরৎ যেতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা  থানাহাট সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মোঃ রুহুল আমিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান এ অফিসে দাখিলা বই না থাকায় খাঁজনা নিতে পারছিনা তবে বিষয়টি কতপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সোমবার, ২৭ আগস্ট, ২০১২

নবগঠিত চিলমারী প্রেস কাউন্সিলের কমিটি গঠন

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে নব গঠিত চিলমারী প্রেস কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়েছে।
“বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে র্নিভিক কলম সৈনিক” শ্লোগানকে সামনে রেখে চিলমারী উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন স্থানীয়, আঞ্চলিক ও জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিকদের নিয়ে নব গঠিত চিলমারী প্রেস কাউন্সিল নামক একটি সাংবাদিক সংগঠনের আতœপ্রকাশ ঘটেছে। বিকেলে নিবেদিতা সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার চিলমারী প্রতিনিধি ও সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা শেষে সর্ব সম্মতিক্রমে সহ-অধ্যাপক মোঃ ফজলুল হক (দৈনিক যুগের আলো) কে সভাপতি ও প্রভাষক মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া (দৈনিক করতোয়া) কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যনিবাহী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহ-সভাপতি প্রভাষক মিজানুর রহমান (দৈনিক মায়াবাজার), সহ-সাধারণ সম্পাদক সহ-অধ্যাপক মোঃ মনিরুল আলম লিটু (সাপ্তাহিক সকালের কাগজ), সাংগঠনিক সম্পাদক সহঃ অধ্যাপক গোলাম মাহবুব (দৈনিক রংপুর চিত্র), অর্থ সম্পাদক প্রভাষক মোছাঃ রিফাহ্ যাঈমা তটিনী (সাপ্তাহিক বাহের দেশ), দপ্তর ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রভাষক মোঃ জিয়াউর রহমান জুয়েল (সাপ্তাহিক কুড়িগ্রাম বার্তা), কার্যকারী সদস্যরা হলেন সহ-অধ্যাপক নাজমুল হুদা পারভেজ (দৈনিক সমকাল), এস,এম নুরুল আমিন সরকার (দৈনিক সংবাদ
ও দৈনিক আজকালের খবর), প্রদর্শক মোঃ আমজাদ হোসেন (সাপ্তাহিক জনপ্রাণ), এম,এ আই লাল মিয়া (দৈনিক কুড়িগ্রাম খবর), সহ-অধ্যাপক রাশীদুল আলম বাদল (দৈনিক সংগ্রাম), হুমায়ুন কবীর ডিউক (উত্তরচিত্র), আব্দুর রশিদ আনছারী (দৈনিক নয়াদিগন্ত), এস,এম নাজমুল আলম (দ্বীপদেশ) ও মোঃ লিয়াকত আলী (দৈনিক সাতমাথা)।

শনিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১২

নদীর পাড় ভেঙে নৌকাডুবি: হারিয়ে গেল সুজনের ঈদ আনন্দ

চিলমারী সংবাদঃ
অনেক আশা করে বেরিয়ে ছিল বাবা-মা ভাই বোনের সাথে নৌকায় ঘুরে ঘুরে ঈদের আনন্দ উপভোগ করবে সবার মতো কিন্তু তা আর হলো না সুজনের। নদীর পাড়েই তলেই হারিয়ে গেলো তার সব আনন্দ।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ঈদ আনন্দ উপভোগ করার জন্য গত শুক্রবার নিজ নৌকা যোগে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সোলার পাড়া এলাকার আমিনুল ইসলাম নৌকা যোগে বের হলে সন্ধ্যার দিকে ফকিরের হাট ঘাটে এসে পৌঁছায়। এসময় নদীর পাড় ভেঙে নৌকার উপর পড়ে তৎক্ষনিক ভাবে নৌকাটি ডুবে যায়। তাদের চিৎকারে লোকজন এসে আহত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী ও দু’সন্তানকে উদ্ধার করলেও শিশু সন্তান সুজনকে পাওয়া যায়নি। আহতদের উলিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের সোলার পাড়া এলাকার আমিনুল ইসলাম(৩৫) স্ত্রী সুরুজভান(২৭), মেয়ে আমিনা (১০) ও দুই ছেলে আলামিন(১২) এবং সুজন(৮)কে নিয়ে নিজ ডিংগী নৌকা যোগে নদী পথে সবার মতো ঈদ আনন্দ উপভোগ করার জন্য নৌকা নিয়ে বের হয় আনুমানিক ৪টার সময় চিলমারী উপজেলার ফকিরের হাট ঘাটের কিনারায় পৌঁছালে নদীর পাড় ভেঙ্গে নৌকার উপর পড়ে এবং তৎক্ষানিক নৌকাটি নদীতে তলিয়ে যায়।
এসময় তাদের চিৎকারে লোকজন ছুটে এসে প্রথমে স্বামী-স্ত্রী পরে এক মেয়ে ও ছেলেকে উদ্ধার করলেও সুজনকে পায়নি। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উলিপুর হাসপাতালে ভার্তি করেন। এদিকে শিশু সন্তান সুজনকে না পেয়ে বাবা-মা পাগল প্রায়।
শনিবার সকালে এ রিপোট লেখা পর্যন্ত শিশু সুজনের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম (মঞ্জু) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১২

চিলমারীতে ঈদ উদযাপন

চিলমারীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হয়েছে । চিলমারীতে ঈদের প্রধান জামাত সকালে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।নামাজের পর চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র পাড়ে (রাজারভিটা,রমনা,জোড়গাছ) শুরু হই  ঈদমেলা। হাজার হাজার মানুষ এসে জমায়েত হয় এখানে। ঈদের দিন তিল ধারণের জায়গা ছিল না । অনেকে নৌকা করে নদীতে ঘুরেছেন। দেশের অনেক স্থানে বৃষ্টি হলেও চিলমারীতে না হওয়ার কারনে উৎসবে  কোন রকম সমস্যা হই নি। 

রোববার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের ডাটিয়ার চরে ঈদ উদযাপন

চিলমারী সংবাদ:
চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের ডাটিয়ার চরে ১‘শ ৭৫টি পরিবার রোববার পবিত্র ঈদ উল ফিতর উদ্যাপন করছেন।
সকাল ৯টায় ডাটিয়ার চর ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদ উল ফিতরের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন মোঃ আশিকুর রহমান।
সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুর রশিদ জানান, সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে প্রতি বছর ডাটিয়ারচরের কিছু মানুষ একদিন আগে রোজা রাখেন এবং ঈদ উল ফিতর উদযাপন করেন।
ঢুষমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান ও অষ্টমীরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, কাদিয়ানী বংশোভূত ডাটিয়ার চরের ১‘শ ৭৫টি পরিবার সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোববার ঈদ উদযাপন করছেন।

শনিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১২

চিলমারিতে এস এস সি ২০০৫ ব্যাচ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

গত শুক্রবার থানাহাট এ ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এস এস সি ২০০৫ ব্যাচ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদ এর ছুটিতে সকল বন্ধুরা বাসায় এসেছে, আর এই রমজান তাদের একসাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রতিবছরের মত এবারো তারা একদিনের জন্য হলেও সকলে একসাথে মিলিত হল।প্রতিবারের মত তারা এবারও চিলমারীর উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গিকার করেন। এস এস সি ২০০৫ ব্যাচ এর সকল বন্ধুরা আশাবাদী তাদের আজকের এই ছোট ছোট ভাবনা গুলো একদিন আধুনিক চিলমারি গড়তে বড় ভুমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট, ২০১২

চিলমারীর ঈদ মার্কেটে শুধু নামেই কাটছে

চিলমারী সংবাদ (১৩ আগষ্ট, ২০১২):
উৎসবপ্রিয় বাঙালির উৎসবে চাই নতুন পোশাক। আর তা যদি হয় ঈদ, তাহলে তো কথাই নেই। বাঙালির ঈদের পোশাকে চাই নতুনত্ব। ক্রেতাদের এসব চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঈদ মার্কেটগুলোতে এখন চলছে বাহারি নামের পোশাক। ভারতীয় মেগাসিরিয়াল আর ছবির নামের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করা পোশাকগুলো তো মাতিয়ে রেখেছে ক্রেতাদের। খুশি, ঝিলিক, পাগলু, ক্যাপসুল আর আওয়ারা নামের পোশাক এখন মানুষের মুখে মুখে। আর বাহারি এসব নামে মজেছে তরুণ-তরুণীরা। চিলমারী উপজেলা মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, সববয়সী মেয়েদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে খুশি আর ঝিলিক নামের পোশাক। ভারতীয় টিভি সিরিয়াল আর তার চরিত্রগুলোর নামে দেওয়া এসব পোশাক আকর্ষণ করছে ক্রেতাদের। ছেলেদের পোশাকের বাজার দখলে রেখেছে ক্যাপসুল আওয়ারা, পাগলু-২, জানেমন আর হ্যান্ডেট পার্সেন্ট লাভ। এছাড়া রোমিও, লে-হালুয়া, ভালোবাসা ডট কম, জানেমন, উলালা, ক্যালমা, বুলেট নামের বাহারি পোশাকও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দোকানে।

চিলমারীতে জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

চিলমারী সংবাদ (১৩ আগষ্ট, ২০১২):
গতকাল কুড়িগ্রামেরে চিলমারীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ‘পবিত্র রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা জামায়াতের সভাপতি অধ্যাপক রাশীদুল আলম বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক আব্দুল জলিল সরকার, বিশেষ অতিথি হিসাবে জেলা জামায়াতের সুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ নুর আলম মুকুল প্রমুখ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। পরে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

চিলমারী প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

চিলমারী সংবাদ (১৩ আগষ্ট, ২০১২):
গতকাল চিলমারী প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার পূর্ব আলোচনা সভা প্রেস ক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা সচিব নাজমুল হুদা পারভেজ, উপদেষ্টা মোঃ আমজাদ হোসেন, চিলমারী নিউজ ডট কম সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এস, এম নুরুল আমিন সরকার ও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার বর্ম্মণ। মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রেসক্লাব সদস্য রাশীদুল আলম বাদল। পরে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

চিলমারীতে অসুস্থ্য শিশু বাবুর জীবন বাঁচাতে আর্থিক সাহায্যের আবেদন

চিলমারী সংবাদ (এস, এম নুআস, চিলমারী,কুড়িগ্রাম) :
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নিভৃত পল্লী পুটিমারী কাজলডাঙ্গা গ্রামের মৃত নুরুজ্জামানের একমাত্র শিশু সন্তান বাবু (১৪মাস) জন্মলগ্ন থেকে পায়খানার রাস্তা না থাকায় রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ বাবলু কুমার সাহার স্বরনাপন্ন হয়ে একবার অপারেশন করা হয়। চলতি বছরের ৩ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগ প্রধান ডাঃ আশরাফ উল কাজলের তত্ত্বাবধায়নে শিশুটির আর একটি সফল অপারেশন হয়। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে আরো ১টি বড় ধরণের অপারেশন করতে হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।  অপারেশনে খরচ প্রায় ৮০ হাজার টাকা। সবমিলে শিশুটির জীবন বাঁচাতে এখন প্রয়োজন ১ লক্ষ টাকা। শিশুটির দুঃখিনী মা নদী ভাঙ্গণের শিকার হয়ে সহায় সম্বল হারিয়ে সন্তানের জীবন বাঁচাতে অন্যের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। তাকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা মোঃ সুলতান মিয়া, সঞ্চয়ী হিসাব নং- ২৩৩০০, সোনালী ব্যাংক লিঃ চিলমারী শাখা, চিলমারী, কুড়িগ্রাম। মোবাইলঃ ০১৭২৩-৩৭৫২৩১, ০১৭৩৩-২৯৭৯৪৩।

রবিবার, ১২ আগস্ট, ২০১২

ভাওয়াইয়ার ফেরিওয়ালা সফিউল আলম রাজা ‘ভাওয়াইয়া রাজা’

এম আর জান্নাত স্বপন : সফিউল আলম রাজার জন্ম ভাওয়াইয়া’র তীর্থ স্থান চিলমারীর বন্দরে। সেই ছোট্ট বেলায় রেডিওতে আব্বাস উদ্দিন আর কছিম উদ্দিনের গান শুনে সঙ্গে সঙ্গে গাওয়ার চেষ্টা করতেন রাজা। এ নিয়ে তার মা শামসুন্নাহার বেগম প্রায়ই মজা করতেন। স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে গান শুনে মুগ্ধ হন উত্তরাঞ্চলের বিখ্যাত শিল্পী,গীতিকার, সুরকার নুরুল ইসলাম জাহিদ। তিনি রাজাকে বললেন, তোমার তো কণ্ঠ অনেক ভালো, অনুশীলন করলে আরো ভালো করবে। তারপর তিনিই ‘আমারই প্রতিভা সঙ্গীত নিকেতনে’ গান শেখার ব্যবস্থা করে দেন।
এভাবেই গানের জগতে রাজার যাত্রা শুরু। এতো গান থাকতে ভাওয়াইয়ার প্রতি এ আলাদা দরদ কেন ? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘ভাওয়াইয়া গানে তিনি অন্যরকমের সুর-আবেদন, প্রাণ খুঁজে পান। এছাড়া ওস্তাদ নুরুল ইসলাম জাহিদ যে ভাওয়াইয়া গান লিখতেন তা রাজার খুবই ভালো লাগতো। এভাবেই ভাওয়াইয়া গানের প্রতি সফউল আলম রাজার দূর্বলতা তৈরি হয়। পড়া-শোরার পাশপাশি গান-বাজনা নিয়ে বেশ মেতে ছিলেন সফিউল আলম রাজা। তারপর স্থানীয় এনজিওতে পার্টটাইম ও পরবর্তী সময়ে ফুলটাইম মিউজিক টিচারের কাজ করেন। একটা সময় রাগ করে চাকরি ছেড়ে দিয়ে বেশ দুরবস্থায় পড়ে যান রাজা। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষে চলে আসেন ঢাকায়। সম্বল কেবল গান ও লেখালেখি জানার গুণ। শুরু হয় বিভিন্ন পত্রিকায় ফিচার লেখা। আগেও স্থানীয় পত্রিকা গুলোতে লিখতেন। ঢাকায় এসে – আল মুজাদ্দেদ, জনকণ্ঠ, সংবাদ সহ আরো কিছু পত্রিকায় লেখালেখি। সময়ের ব্যবধানে সাংবাদিক হিসেবে একটা গ্রহণ যোগ্যতা তৈরি হয় তার। সাংবাদিকতার বিষয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন রাজা। এর মধ্যে ২০০০ সালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরস্কার, ২০০১ সালে ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল(টিআইবি) পুরস্কার, ২০০৩ সালে ক্রাইম রিপোর্টারর্স এসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড, ২০০৪ সালে ডেমক্রেসি ওয়াচ- এর হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড, ২০০৬ সালে ইউনেস্কোক্লাব এসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড উল্লেখ যোগ্য। বতর্মানে তিনি দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার। সাংবাদিকতার পাশাপাশি শত বাধা-বিপত্তিতেও গানের প্রতি ভালোবাসা ধরে রেখেছেন রাজা। গভীর রাতে বাসায় ফিরে তাই গান চর্চায় বসে যেতেন। ২০০১ সালে ধানমন্ডির আড়িয়াল সেন্টারে ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ শিরোনামে রাজার প্রথম একক সঙ্গীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে বিশ্বসঙ্গীত দিবস উপলক্ষ্যে অাঁলিয়স ফ্রসেজ রাজার একক সঙ্গীত সন্ধ্যা’র আয়োজন করেছিলো। এছাড়া ২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে সফউল আলম রাজার এককসংগীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।এছাড়াও বিভিন্ন টিভি-চ্যানেল ও মঞ্চে নিয়মিত গান করছেন রাজা।
বেঙ্গল বিকাশ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণরাজার সংগীত জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এ নিয়েও তার মজার ঘটনা রয়েছে। দৈনিক পত্রিকায় কালচার বিট করেন। বেঙ্গল বিকাশ প্রতিযোগিতার সংবাদ সম্মেলন কাভার করতে গিয়ে রাজা জানতে পারেন ‘বেঙ্গল বিকাশ’ নামে শিল্পীতের ট্যালেন্ট হান্টের কথা। এরপর তিনি নিজেই এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। আর এ প্রতিযোগিতায়ই লোকসঙ্গীত বিভাগে শ্রেষ্ঠ মান পেয়ে বিজয়ী হন সফউল আলম রাজা।
ভাওয়াইয়া গান নিয়ে অনেক পরিকল্পনা তার। এ গানকে নগরজীবনে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি সারা বিশ্বের বাংলাভাষাভাষি মানুষের কাছে জনপ্রিয় করতে চান তিনি। রাজার ভাষায় ‘ আমার মনে হয় ভাওয়াইয়ার প্রসারে প্রচার মাধ্যমগুলো সেভাবে এগিয়ে আসছে না। রেডিও, টেলিভিশনে আরো বেশি করে ভাওয়াইয়া গান প্রচার করা উচিত।’
সাংবাদিকতা এবং গান দুটি নিয়েই সৃষ্টিশীল স্বপ্ন দেখেন রাজা। আরো বহুদূর যেতে চান তিনি সফলতা নিয়ে।২০০৮ সালের ২২ এপ্রিল গানের দল ‘ভাওয়াইয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন রাজা। ইতিমধ্যে এই দলের উদ্যোগে রাজধানীতে ‘ছয়মাস ব্যাপী ভাওয়াইয়া কর্মশালা’ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও এই দলের প্রচেষ্ঠায় সরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে ‘পনের দিনব্যাপী ভাওয়াইয়া কর্মশালা’ সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সফিউল আলম রাজা ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘উত্তরের সুর’ ও ‘আদম হাওয়া’ সিনেমায় ৭টি ভাওয়াইয়া গেয়েছেন। ছবি দুটির পরিচালক শাহনেওয়াজ কাকলী ও রেজানুর রহমান। গত পহেলা বৈশাখে মুক্তি পেয়েছে উত্তরের সুর সিনেমাটি। প্রসঙ্গতঃ চার দশক আগে ফেরদৌসী রহমান ও রথীন্দ্রনাথ রায় সিনেমায় ভাওয়াইয়া গেয়েছেন। আর দীর্ঘ সময় পর দুটি সিনেমায় মৌলিক ভাওয়াইয়া গান করলেন সফিউল আলম রাজা। ২০১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী থেকে গানের দল ‘ভাওয়াইয়া’র পরিচালনায় রাজধানীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘ভাওয়াইয়া স্কুল’। স্কুল-এর পরিচালক ও প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন রাজা। রাজা বাংলাদেশ বেতারের বিশেষ ও টেলিভিশনের প্রথম শ্রেণীর শিল্পী। এছাড়াও দেশের প্রতিটি চ্যানেলেই তিনি নিয়মিত ভাওয়াইয়া পরিবেশন করে আসছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০১১ সালে ) ‘ভাওয়াইয়া গানে ঈদ আনন্দ’ নামে সফউল আলম রাজা’র একটি একক অনুস্ঠান প্রচার করে-যেটি দেশে-বিদেশে বেশ প্রশংসা পেয়েছে। এছাড়া বিদেশী চ্যানেলের মধ্যে কলকাতার ‘তারা মিউজিক’, ‘তারা নিউজ’, ‘কলকাতা টিভি’ সহ বেশ ক’টি চ্যানেলে ভাওয়াইয়া গেয়ে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন রাজা। দেশের প্রায় প্রতিটি চ্যানেলেই বিশেষ দিনে বিশেষ ভাওয়াইয়া পরিবেশন করে থাকেন রাজা ও তার গানের দল ‘ভাওয়াইয়া’র সদস্যরা। বেশ কটি টিভি নাটকেও রাজা ভাওয়াইয়া গান দিয়ে টাইটেল করেছেন।
ইতিমধ্যে রাজার ভাওয়াইয়া গানের সাথে দেশের বিশিষ্ট নৃত্যপরিচালক কবিরুল ইসলাম রতন ও তার দল নাচ করে দেশের সংস্কৃতিমহলে দৃষ্টি কেড়েছেন।বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে রাজার একটি ‘মিক্সড অ্যালবাম’ এবং ‘ভায়োলিন মিডিয়া’ থেকে ‘কবর দেখিয়া যান’ শিরোনামে একক অ্যালবাম বেরিয়েছে। রাজার গানের দল ‘ভাওয়াইয়া’ এবং ‘ভাওয়াইয়া স্কু’ এর লক্ষ্য হচ্ছে-ভাওয়াইয়া গানের বিপুল ভান্ডারকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং বাংলাদেশ সহ সারাবিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী ও অন্যান্য মানুষের মধ্যে এই গান ছড়িয়ে দেয়া। রাজার ভবিষ্যত ইচ্ছে-আব্বাস উদ্দীনের গানের চিলমারী বন্দরে একদিন ‘ভাওয়াইয়া ইন্সটিটিউট’ প্রতিষ্ঠা পাবে। এর পাশেই থাকবে ‘ভাওয়াইয়া আকড়া’। ‘ভাওয়াইয়া ইন্সটিটিউট’-এ দেশ-বিদেশের ছেলে-মেয়েরা যাবেন ভাওয়াইয়া শিখতে। রাজা’র মমতা মাখা সুরে মোহিত শ্রোতারা তাকে ডাকেন ‘ভাওয়াইয়া রাজা’, আবার অনেকে ডাকেন ‘ভাওয়াইয়া গানের ফেরিওয়ালা’ বলে।রাজার এলাকায় বলেন ‘হামার ছাওয়া রাজা’। যে যে নামেই ডাকুক ; আমাদের রাজা এগিয়ে যাক-আরো দূর বহুদূর আমাদের ঐতিহ্যকে নিয়ে।

শুক্রবার, ১০ আগস্ট, ২০১২

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গণে গত ৫দিনে শতাধিক ঘরবাড়ী বিলীন


চিলমারী সংবাদ (১০ আগষ্ট, ২০১২) : চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙ্গণে গত ৫দিনে শতাধিক ঘরবাড়ী বিলীন হয়ে গেছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে কয়েক শত মানুষ। বন্যার পর ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে শুরু হয় তীব্র নদী ভাঙ্গণ। রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের বন্যার পর রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কালিরকুড়া থেকে নয়াবস পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটারব্যাপী এলাকায় নদীভাঙ্গণ শুরু হয়। নদী ভাঙ্গণে তাঁর ইউনিয়নের ২ শতাধিক পরিবারের প্রায় ৮‘শ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদীভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা করে জেলা উপজেলা পর্যায়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেয়া হলেও অদ্যবধি সরকারীভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। নদী ভাঙ্গণের শিকার মকবুল হোসেন (৬৫), বাবলু (৪৫), আব্দুল আজিজ (৫৫), রফিকুল (৪৫), মৌলত (৩৫), বানভাষা (২৫), তোজাম্মেল (৫৬) জানান, গত ৫দিনের অব্যাহত নদী ভাঙ্গণে প্রায় ২৫/৩০ লাখ টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নদী ভাঙ্গণের শিকার পরিবারগুলো খোলা আকাশের নীচে, কেউ কেউ আতœীয় স্বজনের বাড়ীতে, আবার অনেকে রাস্তার ধারে ঝুপড়ি-ধাপড়ি তুলে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন। তেতুলকান্দি জামে মসজিদ থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গণ ৮/১০ হাত অদূরে অবস্থান করছে।

চিলমারীতে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ


চিলমারী সংবাদ (১০ আগষ্ট, ২০১২) :
চিলমারীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। আজ দুপুরে চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের মুনকির বিলে ৩‘শ ৬০ কেজি এবং থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা গ্রামের মাটিয়ালের ছড়ায় ২‘শ ২২ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোন অবমুক্ত করা হয়েছে। এসময় উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান রানা, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সাত্তার, সাংবাদিক প্রভাষক জিয়াউর রহমান জিয়া, এস, এম নুরুল আমিন সরকার, রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাঈদুল ইসলাম মুকুল, ছাত্রনেতা নুর আলম, ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব পূর্ণতিথি উপলক্ষ্যে চিলমারীতে র‌্যালি


চিলমারী সংবাদ (১০ আগষ্ট, ২০১২) : ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র জন্মতিথি উপলক্ষ্যে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন মন্দিরে পূজা অর্চনা, তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন ও তারকব্রহ্ম নামযজ্ঞের আয়োজন করে। মন্দির ছাড়াও ঘরে ঘরে ভক্তরা উপবাস থেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা ও পূজা করেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ব্যানারে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলা কেন্দ্রীয় সার্বজনিন মন্দির সবুজপাড়া বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

কুড়িগ্রামে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বরাদ্দ বেড়েছে : কেটে যাচ্ছে মঙ্গা


চিলমারি সংবাদঃ
বর্তমান মহাজোট সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বরাদ্দ বেড়েছে। বেড়েছে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা এবং উপকার ভোগীর সংখ্যা। ফলে ক্রমেই মঙ্গাকে জয় করতে চলছে কুড়িগ্রামের মানুষ। এ কর্মসূচির আওতায় গত অর্থবছরে ২০১১-১২ কুড়িগ্রাম জেলায় সরকার বিভিন্ন দফতরের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার খাদ্যশস্য ও নগদ টাকা সহায়তা দিয়েছে। এই সহায়তা এর আগের অর্থবছরের (২০১০-১১) চেয়ে ৮৩ কোটি টাকা বেশি। ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতরের টিআর, কাবিখা, ভিজিএফ ও অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্প, মহিলাবিষয়ক দফতরের ভিজিডি, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও কর্মজীবী মহিলাদের ভাতা, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তি, বিআরডিবির একটি বাড়ি একটি খামার ও উত্তরাঞ্চলের হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্প, এলজিইডির পল­ী কর্মসংস্থান ও রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি, সমাজসেবা দফতরের মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি দেয়া হবে। এ ছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদফতরের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সহায়তা দেয়া হয়। ফলে জেলার মঙ্গা পরিস্থিতি কমেছে অনেকাংশে, যা বর্তমান সরকারের অন্যতম অর্জন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতরের অধীনে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির ২ পর্যায়ে ৪০ দিন করে কাজের সুযোগ পেয়েছে ৪৫ হাজার ৬১৮টি পরিবারের একজন করে কর্মক্ষম নারী-পুরুষ। এদের দৈনিক ১৭৫ টাকা করে মজুরি হিসেবে দেয়া হয়েছে ৩১ কোটি ৮৯ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা। এ কর্মসূচিতে নন-ওয়েজ খাতে দেয়া হয়েছে তিন কোটি ৫৪ লাখ ৮০ হাজার ৫২২ টাকা। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কর্মসূচিতে (টিআর) ২ হাজার ৯৯৪টি প্রকল্পে পাঁচ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন চাল-গম ব্যয় করা হয়েছে। এতে ২ লাখের মতো পরিবার পর্যায়ক্রমে কাজ পেয়েছেন। কাবিখার ৬৬৮টি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ২৯০ মেট্রিক টন চাল। এতে পর্যায়ক্রমে কাজ পেয়েছে এক লাখের মতো পরিবার। এসব খাদ্যশস্য দিতে সরকারি দর মোতাবেক ব্যয় হয়েছে ৩১ কোটি ৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা। দু’দফায় ভিজিএফ সুবিধা পেয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার পরিবার। এতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ২৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ৪৩ মেট্রিক টন চাল। ডিম ও পোনা ছাড়ার মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ২ হাজার ৫৭৬টি মৎস্যজীবী পরিবারকে ৬০ কেজি করে ৪৬ লাখ ৩ হাজার টাকা মূল্যের ১৫৫ মেট্রিক টন চাল সহায়তা দেয়া হয়েছে। মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের মাধ্যমে ভিজিডি কর্মসূচিতে ২৬ হাজার ৪৯৮টি পরিবারকে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে মোট ৯ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। মাতৃত্বকালীন ভাতা বাবদ ২১ হাজার ৬০০ জনকে দেয়া হয়েছে ৯ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। কর্মজীবী মহিলা ভাতা বাবদ ১ হাজার জনকে দেয়া হয়েছে ৪২ লাখ টাকা। সমাজসেবা দফতরের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা হিসেবে ৪ হাজার ৬২ জনকে ৯ কোটি ৭৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ১৭ হাজার ৯৭৮ জন দুস্থ মহিলাকে ভাতা বাবদ ৬ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার ৮০০ টাকা, প্রতিবন্ধী ভাতা বাবদ ৪ হাজার ২৫৭ জনকে ১ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ২০০ টাকা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি বাবদ ৪০০ জনকে ৫৪ লাখ ৮৪ হাজার ৯০০ টাকা দেয়া হয়েছে। বিআরডিবির মাধ্যমে একটি বাড়ি একটি খামার কর্মসূচিতে ১৮ হাজার ৮৮৪টি পরিবারকে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং উত্তরাঞ্চলের হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্পে ২ হাজার ১৬০ জনকে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া এলজিইডির পল­ী কর্মসংস্থান ও রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ২ হাজার ১৬০ দুস্থ মহিলা দৈনিক ৯০ টাকা করে মজুরি হিসেবে ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পেয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৩ হাজার ছাত্রছাত্রীকে উপবৃত্তি বাবদ দেয়া হয়েছে ২৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ের গড়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার ছাত্রছাত্রীর প্রত্যেককে স্কুল চলাকালীন প্রতিদিন ৭৫ গ্রাম করে পুষ্টি বিস্কিট পেয়েছে। এতে দেয়া হয়েছে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বিস্কিট। এ ছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে আড়াই লাখের মতো ছাত্রছাত্রীকে উপবৃত্তি হিসেবে দেয়া হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। এ ছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মাধ্যমে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী বেকার যুব ও যুব মহিলাকে ৭৬ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়ার পর ২ বছরের জন্য অস্থায়ীভাবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করা হয়। এতে অস্থায়ীভাবে চাকরি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮১৫ জন বেকার যুব ও যুব মহিলা।

সোমবার, ৬ আগস্ট, ২০১২

আমেরিকা প্রবাসী রহিমুজ্জামান সুমন চিলমারীবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতর এর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন


চিলমারী সংবাদঃ
চিলমারী উপজেলা যুবলীগের অন্যতম সদস্য আমেরিকা প্রবাসী রহিমুজ্জামান সুমন
চিলমারীবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতর এর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন । তাঁর পক্ষ থেকে ঝুলানো শুভেচ্ছা ব্যানার শোভা পাচ্ছে চিলমারীর বিভিন্ন এলাকায়। রহিমুজ্জামান সুমনের জন্
ম ১৯৭৯ সালের ৯ অক্টোবর চিলমারীতে। তিনি ১৯৯৮ সালে চিলমারী ডিগ্রি কলেজের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন।২০০২ সালে কারমাইকেল কলেজের ছাত্রলীগের যুগ্ন সম্পাদক ছিলেন। সেখান থেকে তিনি ২০০৬ সালে এম, এ শেষ করে চাকুরী জীবন শুরু করেন। অতঃপর রহিমুজ্জামান সুমন ২০০৯ সালে আমেরিকা চলে যান। আমেরিকা থেকেই স্বপ্ন দেখেন আধুনিক চিলমারী গড়ার। তাঁর সাথে কথা হলে তিনি জানান তাঁর স্বপ্ন গুলোর কথা... তাঁর স্বপ্ন গুলো হচ্ছে, ১. চিলমারীকে পৌরসভা করা।
২. চিলমারীতে আব্বাস উদ্দিনের একটি ভাস্কর্য করা।
৩. নদীর বাঁধার কাজ শেষ করা।
৪. চিলমারীর রাস্তাঘাট এর উন্নয়ন করা।
৫. খেলাধুলার উন্নয়নে চিলমারীতে একটি স্টেডিয়াম করা।
৬. মঙ্গা দূরীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন।
৭. মাদক মুক্ত চিলমারী গড়া।
৮.চিলমারীর মেধাবি শিক্ষার্থীদের বিত্তির জন্য একটা ফাউন্ডেশন করা।
৯. স্কুল ও কলেজ গুলোকে সরকারি করনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনসহ চিলমারী বাসীর সকল প্রানের দাবি গুলো বাস্তবায়ন করা তাঁর ইচ্ছা। তিনি দেশে ফিরে দেশসেবা করতে চান। সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন তিনি।


বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবীতে চিলমারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত


চিলমারী সংবাদ (০৬ আগষ্ট, ২০১২) : বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবীতে চিলমারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চিলমারী উপজেলা শাখার উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ মোড়ে চিলমারী- কুড়িগ্রাম সড়কে একটি বিশাল মানব প্রাচীর গড়ে তোলে। এসময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ সরকার ও ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ মাঈদুল ইসলাম মুকুল বক্তব্য রাখেন। বক্তাগণ, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসীর রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দাখিল করা হয়।

শনিবার, ৪ আগস্ট, ২০১২

ডেসটিনি ও লাক্সার প্রতারণার শিকার নাগেশ্বরীর কয়েক হাজার মানুষ: ১৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ


কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানী ডেসটিনি ২০০০ লি: ও লাক্সার গ্লোবাল এন লিমিটিডের প্রতারণার শিকার হয়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। তাদের প্রায় ১৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কোম্পানি ২টি। প্রতারনার শিকার অসহায় লোকজন টাকা ফেরতের জন্য অফিসটিতে ধর্না দিলেও কর্মকর্তাদের দেখা মিলছে না। তারা সুযোগ বুঝে মাঝে মাঝে শুধুমাত্র সন্ধ্যার দিকে অল্প সময়ের জন্য অফিসে আসছেন। জানা গেছে, কয়েক বছর আগে হরানন্দ রায়, সাইফুর রহমান, আব্দুল লতিফসহ কয়েকজন ডেসটিনি ২০০০ লি: নাগেশ্বরীতে নিয়ে আসে। বিভিন্ন জায়গায় অফিস স্থানান্তরিত করে বর্তমানে নাগেশ্বরী খাদ্য গোডাইউনের সামনের একটি ভাড়া বাসায় স্থাপন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা নাগেশ্বরী কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষজনকে দ্রুত কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে থাকে। তাদের প্রতারণা বুঝতে না পেরে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ ডেসটিনি কোম্পানীতে প্রায় ১১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। এক পর্যায়ে ঐ সময়ের ডেসটিনির নেতৃত্বদানকারীদের অন্যতম নাগেশ্বরী পৌরসভার সচিব হরানন্দ রায় প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এমন অভিযোগে ডেসটিনির উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ ২০১১ সালে তাকে বহিস্কার করে। পরবর্তীতে প্রতারণার নতুন ফাঁদ পেতে ঐ বছরের মাঝামাঝি সময়ে একইভাবে প্রতারনার উদ্যেশ্যে লাক্সার গ্লোবাল এন লিমিটিডেটের কর্মকর্তা সেজে নাগেশ্বরী পৌরসভার সচিব হরানন্দ রায় নাগেশ্বরী বাস

বুধবার, ১ আগস্ট, ২০১২


অভাব দমিয়ে রাখতে পারেনি চিলমারীর সুফিয়া আক্তারকে

চিলমারী সংবাদ :
অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হলেও মনের অদম্য ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি অভাব। শত পিছু টানকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র মনের জোড়েই সাফল্যকে নিজের মতো করে ঘরে তুলে নিয়েছে মেয়েটি। একাগ্রতা আর পরিশ্রমের মাধ্যমেই সৌভাগ্যকে যেন সে স্পর্শ করেছে। এসএসসিতে ৪.৯৪ পেয়েও জিপিএ হাত ছাড়া হয়েছিল বলে ব্যর্থতার অতল গহব্বরে নিজেকে হারিয়ে যেতে দেয়নি সে। শুধুমাত্র ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এবং চিলমারী মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষকদের সহযোগিতায় শত অভাবের মাঝেও এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার এক রিক্সা চালকের মেয়ে সুফিয়া আক্তার।
রিক্সা চালক রফিকুল ইসলামের বড় মেয়ে সুফিয়া। চার ভাই-বোনের টানাটানির সংসার। বাবা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে সামান্য টাকা রোজগার করে তা দিয়ে দু’বেলা ঠিক মতো পেটের ভাতই জোটেনা। অধিকাংশ সময়ই মা-বাবা, ভাই-বোনকে নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হয়। ভূমিহীন পিতা রফিকুল ইসলাম উপজেলার রমনা রেল লাইনের পার্শ্বে কোনও রকমে একটি খড়ের ঘর তুলে সন্তানদেরকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সুফিয়া আক্তার জানায়, সেই খড়ের ঘরেই গাদাগাদি করে তাদেরকে থাকতে হয়। বড় ভাই লাল মিঞা চিলমারী ডিগ্রী কলেজে বি.কম দ্বিতীয় বর্ষে পড়া লেখা করছে। বাবার সামান্য আয়ে সংসার চলেনা জন্য নিজে পড়াশুনার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়ে যে অর্থ আয় করে তা থেকেই ছোট ভাই বোনদের লেখাপড়ার পিছনে তা ব্যয় করে। সুফিয়া জানায়, বড় ভাইয়ের সহযোগিতা না পেলে তার পক্ষে জিপিএ-৫ পাওয়া সম্ভব ছিল না। পাশাপাশি কলেজের ইংরেজী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুল মতিনের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করে সুফিয়া জানায়, এই দুইজন শিক্ষক তাকে বিনা টাকায় প্রাইভেট পড়িয়েছে, বিভিন্ন নোট দিয়ে সহযোগিতা করেছে। তার ইচ্ছা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাল কোনও বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করে ভবিষ্যৎ এ নিজেকে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত করা।

ব্রহ্মপুত্রের বুকে চিলমারী ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান

চিলমারী সংবাদ :
কুড়িগ্রামের চিলমারী ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ব্রহ্মপুত্র নদীর বুকে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টির পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে ।
সম্প্রতি স্কুল ভবনটি ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হবার পর থেকে নদীর পাড়েই সাবেক এক ইউপি সদস্যর বাড়ীর আঙ্গিনায় খোলা আকাশের নিচে স্কুলটির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফলে মহা বিপদে পরেছে স্কুলটির শিক্ষকমন্ডলী। শিক্ষিকা মোছাঃ শারমিন আকন্দ ছন্দা জানান, এই গরমে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেওয়ার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া লেখায় মনোযোগ থাকছে না। ক্লাস নিতেও অসুবিধা হচ্ছে। ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোকছেদুল, আইরিন, খোকন জানায়, আর মাত্র ৫মাস পর তাদের সমাপনী পরীক্ষা- এ রকম পরিবেশে তারা মোটেও পড়ালেখায় মনোযোগী হতে পাচ্ছেনা। তারা আরো জানায়, রোদে কষ্ট করে ক্লাস করা গেলেও বৃষ্টি হলে ভেজা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করায় বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে প্রধান শিক্ষিকাসহ ৭জন শিক্ষক স্কুলটিতে কর্মরত আছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: লিলুফা ইয়াসমিন জানান, বর্তমানে ক্লাস নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় বর্তমানে সাবেক ই্উপি সদস্য সুজা মিয়ার বাড়িতে খোলা আকাশের নিচে মাটিতে অস্থায়ী ভাবে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করলে আমরাই বা কি করবো, ভেবে পাচ্ছিনা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সম্ভু চরন দাস এর মুখোমুখি হলে তিনি বলেন, এলাকাবাসী অস্থায়ীভাবে ক্লাসের ব্যবস্থা করেছেন। স্থায়ী জায়গা ও অবকাঠামো সমস্যার কথা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অতিসত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।