মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১২

পাটের ছাল ছাড়ানোর ধুম পড়েছে কুড়িগ্রামের চিলমারি উপজেলা গ্রামঞ্চলের ডোবা নালায়

পাট নিয়ে ব্যস্ত কৃষক

চিলমারি সংবাদদাতাঃ
সোনালি আশেঁর সোনালী রংয়ে ভরে গেছে কৃষকের ঘর ।এবছর সোনালী আঁশ আর কৃষকের গলার ফাঁস নয় । বাজারে দাম বেশি থাকায় পাটের ছাল ছাড়ানোর ধুম পড়েছে কুড়িগ্রামের চিলমারি উপজেলা গ্রামঞ্চলের ডোবা নালায় । ফলনও হয়েছে মোটামুটি ভাল। সোনালি আশেঁর দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এবছর মৌসুমের শুরুতেই কৃষকরা পাট বিক্রি করে দাম ভাল পাচ্ছে । উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে  প্রতিমন পাট ১৭শ” থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে ।  ভালো ফলন ও আশানুরুপ দাম পেয়ে   কৃষকের চোখে মূখে এখন খুশীর ঝিলিক ।
বিগত কয়েক বছর থেকে বাজারে পাটের তেমন দাম না থাকায় এ অঞ্চলের কৃষকরা পাট চাষ ছেড়ে দিয়ে অন্যান্য লাভজনক ফসলের চাষাবাদে ঝুকে  পড়েছে। কারন পাট চাষ করে খরচের টাকা  উঠতো না কৃষকের ঘরে । অনেক  কৃষক রাগে,দুঃখে পাটে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটাত মাঝে মধ্যে । ক্রেতা শুন্য সেই পাটের বাজারে ব্যাপারী, ফড়িয়া, মহাজনদের আনাগোনা দেখে বদলে গেছে কৃষকের মন । তাছাড়া  পাট বোনার পর একটু বড় হতেই পাট শাক হিসেবে এবং পাট কাঠি জালানী হিসেবে প্রতি আঁটি ৮-১০টাকা দরে বাজারে বিক্রি করে এ বছর  কৃষকরা ভাল আয় করেছে। তাই মৌসমের শুরুতেই সরগরম হয়ে উঠেছে পাটের হাট ।

সোমবার, ৩০ জুলাই, ২০১২

চিলমারীতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংসদ সদস্যের সাংবাদিক সম্মেলন: উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগঃ

চিলমারী প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় গত দু‘সপ্তাহ যাবৎ চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ জাকির হোসেন শনিবার সন্ধ্যায় রমনা মডেল ইউনিয়ন পরিষদে সাংবাদিক সম্মেলন করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য কুড়িগ্রামের সংসদ সদস্য মোঃ জাফর আলী এবং চিলমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রমকে দায়ী করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ জাকির হোসেন বলেন, ক‘দিন পূর্বে চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে রিলিফ বিতরণের সময় তিনি শুনতে পান চিলমারীতে ছাত্রলীগের দু‘গ্র“পের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। পরে তিনি জানতে পারেন, নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির কারণ প্লান বাংলাদেশ নামক একটি এনজিও‘র দেওয়া দেড় কোটি টাকা পরিমাণ ত্রাণকে ঘিরে। তিনি বলেন, উক্ত টাকা নদী ভাঙ্গা মানুষের জন্য। এই টাকাটা বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দেয়ার কথা। তিনি জানতে পেরেছেন, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নের টাকা চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিলি করা হলেও সেখানে কিছুটা দূর্ণীতি হয়েছে। বাকী কয়েকটি ইউনিয়নে এবং রমনা ইউনিয়নে টাকা উপজেলা চেয়ারম্যান নিজে দিয়েছেন। কাদের নিকট উক্ত টাকা বিতরণ করা হয়েছে, অদ্যবধি তার কোন তালিকা পাওয়া যায়নি। এব্যাপারটি নিয়ে রমনা মডেল ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় লোকজনের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যানের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এটা নিয়ে মামলা মোকদ্দমাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চিলমারী উপজেলা আওয়ামলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রমের দূর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে সংসদ সদস্য মোঃ জাকির হোসেন আরো বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির একজন সাবেক নেতা ছিলেন। তিনি পিএইচডি করা আওয়ামীলীগার। এক সময় জাতীয় পার্টি করেছে, আইডিএল করেছে, জাসদ করেছে এখন উনি আওয়ামীলীগ করছেন। দৈনিক জনকন্ঠে উনি আমার বিরুদ্ধে কিছু কথা বলেছেন। আমি নাকি গন্ডগোলের হোতা, আমি নাকি অসামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। আমি মনে করি চিলমারীর এই গন্ডগোল কুড়িগ্রামের সাংসদ জাফর আলী ও চিলমারী আওয়ামলীগ সভাপতি করাচ্ছেন।
সাংসদ জাকির হোসেন বলেন, চিলমারীতে বিগত দিনে উপজেলা চেয়ারম্যান জনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে স্কুলের ছাত্র ও অন্য দলীয় লোকজনকে ন্যাশনাল সার্ভিসে চাকুরী দিয়েছেন। অত্যন্ত দুঃখ্যজনক হলেও সত্য যে, ন্যাশনাল সার্ভিসে আমার দলীয় কর্মীদের চাকুরী হয় নাই। চাকুরী হয়েছে, জামায়াত, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কর্মীদের। এসব ব্যাপার নিয়ে তার সাথে আমার মতানৈক্যের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প ও বিআরডিবির উহুদকনিকা নামক প্রকল্পে তাকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে না দিলে কারও নাম অর্ন্তভূক্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের নিকট থেকে গম সংগ্রহের সময় চিলমারীতে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও ওসিএলএসডি’র যোগসাজসের কারণে কৃষকরা কোনও গম দিতে পারেনি। শওকত আলী সরকার ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
সাংসদ জাকির হোসেন আরও বলেন, তিনি সব সময়ই অসাংবিধানিক কাজ করে থাকেন। গত সাড়ে তিন বছরে আ’লীগের একটিও থানা মিটিং তিনি করেন নাই। মিটিং করতে তিনি ভয় পান। বর্তমানে যে কমিটি আছে সেখানে দলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের জায়গা হয় নাই। জায়গা পেয়েছে জামায়াত ও জাতীয় পার্টির লোকজন।
তিনি বলেন, গত ১৭ জুলাই দলের বর্ধিত সভা হয়েছে অথচ আমাকে চিঠি দেওয়া হয় নাই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার স্থানীয় সুশীল সমাজ ও দলীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে চিলমারী থানায় বসে চলমান সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে সংসদ সদস্য ছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রমনা মডেল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নূর-ই এলাহী তুহিন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আব্দুল্লাহ শুভ, কৃষকলীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল বারী, যুবলীগ সভাপতি নুরুজ্জামান আজাদ জামান, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোঃ জামিনুল ইসলাম, আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ আব্দুস সাত্তার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।