বুধবার, ২৯ আগস্ট, ২০১২

চিলমারীতে জমির মালিকরা খাঁজনা পরিশোধ করতে পারছেনা

চিলমারী সংবাদঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে দাখিলা বই না থাকায় ভূমি মালিকরা খাঁজনা পরিশোধ ও নাম জারি করতে না পারায় জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ কৃষি ঋণ গ্রহন করতে পারছেনা। ফলে ভেস্তে যেতে বসেছে ভূমি অফিসের কার্যক্রম।
জানা গেছে, গত দু’মাস থেকে চিলমারী উপজেলা ভূমি অফিসগুলোতে দাখিলা বই না থাকায় বিশেষ করে চরাঞ্চলের ভূমি মালিকরা নদী পাড়া পাড়  হয়ে খাঁজনা দিতে এসেও না দিয়েই ফেরৎ যেতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা  থানাহাট সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মোঃ রুহুল আমিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান এ অফিসে দাখিলা বই না থাকায় খাঁজনা নিতে পারছিনা তবে বিষয়টি কতপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সোমবার, ২৭ আগস্ট, ২০১২

নবগঠিত চিলমারী প্রেস কাউন্সিলের কমিটি গঠন

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে নব গঠিত চিলমারী প্রেস কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়েছে।
“বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে র্নিভিক কলম সৈনিক” শ্লোগানকে সামনে রেখে চিলমারী উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন স্থানীয়, আঞ্চলিক ও জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিকদের নিয়ে নব গঠিত চিলমারী প্রেস কাউন্সিল নামক একটি সাংবাদিক সংগঠনের আতœপ্রকাশ ঘটেছে। বিকেলে নিবেদিতা সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার চিলমারী প্রতিনিধি ও সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা শেষে সর্ব সম্মতিক্রমে সহ-অধ্যাপক মোঃ ফজলুল হক (দৈনিক যুগের আলো) কে সভাপতি ও প্রভাষক মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া (দৈনিক করতোয়া) কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যনিবাহী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহ-সভাপতি প্রভাষক মিজানুর রহমান (দৈনিক মায়াবাজার), সহ-সাধারণ সম্পাদক সহ-অধ্যাপক মোঃ মনিরুল আলম লিটু (সাপ্তাহিক সকালের কাগজ), সাংগঠনিক সম্পাদক সহঃ অধ্যাপক গোলাম মাহবুব (দৈনিক রংপুর চিত্র), অর্থ সম্পাদক প্রভাষক মোছাঃ রিফাহ্ যাঈমা তটিনী (সাপ্তাহিক বাহের দেশ), দপ্তর ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রভাষক মোঃ জিয়াউর রহমান জুয়েল (সাপ্তাহিক কুড়িগ্রাম বার্তা), কার্যকারী সদস্যরা হলেন সহ-অধ্যাপক নাজমুল হুদা পারভেজ (দৈনিক সমকাল), এস,এম নুরুল আমিন সরকার (দৈনিক সংবাদ
ও দৈনিক আজকালের খবর), প্রদর্শক মোঃ আমজাদ হোসেন (সাপ্তাহিক জনপ্রাণ), এম,এ আই লাল মিয়া (দৈনিক কুড়িগ্রাম খবর), সহ-অধ্যাপক রাশীদুল আলম বাদল (দৈনিক সংগ্রাম), হুমায়ুন কবীর ডিউক (উত্তরচিত্র), আব্দুর রশিদ আনছারী (দৈনিক নয়াদিগন্ত), এস,এম নাজমুল আলম (দ্বীপদেশ) ও মোঃ লিয়াকত আলী (দৈনিক সাতমাথা)।

শনিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১২

নদীর পাড় ভেঙে নৌকাডুবি: হারিয়ে গেল সুজনের ঈদ আনন্দ

চিলমারী সংবাদঃ
অনেক আশা করে বেরিয়ে ছিল বাবা-মা ভাই বোনের সাথে নৌকায় ঘুরে ঘুরে ঈদের আনন্দ উপভোগ করবে সবার মতো কিন্তু তা আর হলো না সুজনের। নদীর পাড়েই তলেই হারিয়ে গেলো তার সব আনন্দ।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ঈদ আনন্দ উপভোগ করার জন্য গত শুক্রবার নিজ নৌকা যোগে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সোলার পাড়া এলাকার আমিনুল ইসলাম নৌকা যোগে বের হলে সন্ধ্যার দিকে ফকিরের হাট ঘাটে এসে পৌঁছায়। এসময় নদীর পাড় ভেঙে নৌকার উপর পড়ে তৎক্ষনিক ভাবে নৌকাটি ডুবে যায়। তাদের চিৎকারে লোকজন এসে আহত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী ও দু’সন্তানকে উদ্ধার করলেও শিশু সন্তান সুজনকে পাওয়া যায়নি। আহতদের উলিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের সোলার পাড়া এলাকার আমিনুল ইসলাম(৩৫) স্ত্রী সুরুজভান(২৭), মেয়ে আমিনা (১০) ও দুই ছেলে আলামিন(১২) এবং সুজন(৮)কে নিয়ে নিজ ডিংগী নৌকা যোগে নদী পথে সবার মতো ঈদ আনন্দ উপভোগ করার জন্য নৌকা নিয়ে বের হয় আনুমানিক ৪টার সময় চিলমারী উপজেলার ফকিরের হাট ঘাটের কিনারায় পৌঁছালে নদীর পাড় ভেঙ্গে নৌকার উপর পড়ে এবং তৎক্ষানিক নৌকাটি নদীতে তলিয়ে যায়।
এসময় তাদের চিৎকারে লোকজন ছুটে এসে প্রথমে স্বামী-স্ত্রী পরে এক মেয়ে ও ছেলেকে উদ্ধার করলেও সুজনকে পায়নি। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উলিপুর হাসপাতালে ভার্তি করেন। এদিকে শিশু সন্তান সুজনকে না পেয়ে বাবা-মা পাগল প্রায়।
শনিবার সকালে এ রিপোট লেখা পর্যন্ত শিশু সুজনের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম (মঞ্জু) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১২

চিলমারীতে ঈদ উদযাপন

চিলমারীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হয়েছে । চিলমারীতে ঈদের প্রধান জামাত সকালে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।নামাজের পর চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র পাড়ে (রাজারভিটা,রমনা,জোড়গাছ) শুরু হই  ঈদমেলা। হাজার হাজার মানুষ এসে জমায়েত হয় এখানে। ঈদের দিন তিল ধারণের জায়গা ছিল না । অনেকে নৌকা করে নদীতে ঘুরেছেন। দেশের অনেক স্থানে বৃষ্টি হলেও চিলমারীতে না হওয়ার কারনে উৎসবে  কোন রকম সমস্যা হই নি। 

রোববার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের ডাটিয়ার চরে ঈদ উদযাপন

চিলমারী সংবাদ:
চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের ডাটিয়ার চরে ১‘শ ৭৫টি পরিবার রোববার পবিত্র ঈদ উল ফিতর উদ্যাপন করছেন।
সকাল ৯টায় ডাটিয়ার চর ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদ উল ফিতরের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন মোঃ আশিকুর রহমান।
সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুর রশিদ জানান, সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে প্রতি বছর ডাটিয়ারচরের কিছু মানুষ একদিন আগে রোজা রাখেন এবং ঈদ উল ফিতর উদযাপন করেন।
ঢুষমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান ও অষ্টমীরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, কাদিয়ানী বংশোভূত ডাটিয়ার চরের ১‘শ ৭৫টি পরিবার সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোববার ঈদ উদযাপন করছেন।

শনিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১২

চিলমারিতে এস এস সি ২০০৫ ব্যাচ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

গত শুক্রবার থানাহাট এ ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এস এস সি ২০০৫ ব্যাচ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদ এর ছুটিতে সকল বন্ধুরা বাসায় এসেছে, আর এই রমজান তাদের একসাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রতিবছরের মত এবারো তারা একদিনের জন্য হলেও সকলে একসাথে মিলিত হল।প্রতিবারের মত তারা এবারও চিলমারীর উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গিকার করেন। এস এস সি ২০০৫ ব্যাচ এর সকল বন্ধুরা আশাবাদী তাদের আজকের এই ছোট ছোট ভাবনা গুলো একদিন আধুনিক চিলমারি গড়তে বড় ভুমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট, ২০১২

চিলমারীর ঈদ মার্কেটে শুধু নামেই কাটছে

চিলমারী সংবাদ (১৩ আগষ্ট, ২০১২):
উৎসবপ্রিয় বাঙালির উৎসবে চাই নতুন পোশাক। আর তা যদি হয় ঈদ, তাহলে তো কথাই নেই। বাঙালির ঈদের পোশাকে চাই নতুনত্ব। ক্রেতাদের এসব চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঈদ মার্কেটগুলোতে এখন চলছে বাহারি নামের পোশাক। ভারতীয় মেগাসিরিয়াল আর ছবির নামের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করা পোশাকগুলো তো মাতিয়ে রেখেছে ক্রেতাদের। খুশি, ঝিলিক, পাগলু, ক্যাপসুল আর আওয়ারা নামের পোশাক এখন মানুষের মুখে মুখে। আর বাহারি এসব নামে মজেছে তরুণ-তরুণীরা। চিলমারী উপজেলা মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, সববয়সী মেয়েদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে খুশি আর ঝিলিক নামের পোশাক। ভারতীয় টিভি সিরিয়াল আর তার চরিত্রগুলোর নামে দেওয়া এসব পোশাক আকর্ষণ করছে ক্রেতাদের। ছেলেদের পোশাকের বাজার দখলে রেখেছে ক্যাপসুল আওয়ারা, পাগলু-২, জানেমন আর হ্যান্ডেট পার্সেন্ট লাভ। এছাড়া রোমিও, লে-হালুয়া, ভালোবাসা ডট কম, জানেমন, উলালা, ক্যালমা, বুলেট নামের বাহারি পোশাকও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দোকানে।

চিলমারীতে জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

চিলমারী সংবাদ (১৩ আগষ্ট, ২০১২):
গতকাল কুড়িগ্রামেরে চিলমারীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ‘পবিত্র রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা জামায়াতের সভাপতি অধ্যাপক রাশীদুল আলম বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক আব্দুল জলিল সরকার, বিশেষ অতিথি হিসাবে জেলা জামায়াতের সুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ নুর আলম মুকুল প্রমুখ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। পরে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

চিলমারী প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

চিলমারী সংবাদ (১৩ আগষ্ট, ২০১২):
গতকাল চিলমারী প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার পূর্ব আলোচনা সভা প্রেস ক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা সচিব নাজমুল হুদা পারভেজ, উপদেষ্টা মোঃ আমজাদ হোসেন, চিলমারী নিউজ ডট কম সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এস, এম নুরুল আমিন সরকার ও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার বর্ম্মণ। মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রেসক্লাব সদস্য রাশীদুল আলম বাদল। পরে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

চিলমারীতে অসুস্থ্য শিশু বাবুর জীবন বাঁচাতে আর্থিক সাহায্যের আবেদন

চিলমারী সংবাদ (এস, এম নুআস, চিলমারী,কুড়িগ্রাম) :
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নিভৃত পল্লী পুটিমারী কাজলডাঙ্গা গ্রামের মৃত নুরুজ্জামানের একমাত্র শিশু সন্তান বাবু (১৪মাস) জন্মলগ্ন থেকে পায়খানার রাস্তা না থাকায় রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ বাবলু কুমার সাহার স্বরনাপন্ন হয়ে একবার অপারেশন করা হয়। চলতি বছরের ৩ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগ প্রধান ডাঃ আশরাফ উল কাজলের তত্ত্বাবধায়নে শিশুটির আর একটি সফল অপারেশন হয়। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে আরো ১টি বড় ধরণের অপারেশন করতে হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।  অপারেশনে খরচ প্রায় ৮০ হাজার টাকা। সবমিলে শিশুটির জীবন বাঁচাতে এখন প্রয়োজন ১ লক্ষ টাকা। শিশুটির দুঃখিনী মা নদী ভাঙ্গণের শিকার হয়ে সহায় সম্বল হারিয়ে সন্তানের জীবন বাঁচাতে অন্যের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। তাকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা মোঃ সুলতান মিয়া, সঞ্চয়ী হিসাব নং- ২৩৩০০, সোনালী ব্যাংক লিঃ চিলমারী শাখা, চিলমারী, কুড়িগ্রাম। মোবাইলঃ ০১৭২৩-৩৭৫২৩১, ০১৭৩৩-২৯৭৯৪৩।

রবিবার, ১২ আগস্ট, ২০১২

ভাওয়াইয়ার ফেরিওয়ালা সফিউল আলম রাজা ‘ভাওয়াইয়া রাজা’

এম আর জান্নাত স্বপন : সফিউল আলম রাজার জন্ম ভাওয়াইয়া’র তীর্থ স্থান চিলমারীর বন্দরে। সেই ছোট্ট বেলায় রেডিওতে আব্বাস উদ্দিন আর কছিম উদ্দিনের গান শুনে সঙ্গে সঙ্গে গাওয়ার চেষ্টা করতেন রাজা। এ নিয়ে তার মা শামসুন্নাহার বেগম প্রায়ই মজা করতেন। স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে গান শুনে মুগ্ধ হন উত্তরাঞ্চলের বিখ্যাত শিল্পী,গীতিকার, সুরকার নুরুল ইসলাম জাহিদ। তিনি রাজাকে বললেন, তোমার তো কণ্ঠ অনেক ভালো, অনুশীলন করলে আরো ভালো করবে। তারপর তিনিই ‘আমারই প্রতিভা সঙ্গীত নিকেতনে’ গান শেখার ব্যবস্থা করে দেন।
এভাবেই গানের জগতে রাজার যাত্রা শুরু। এতো গান থাকতে ভাওয়াইয়ার প্রতি এ আলাদা দরদ কেন ? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘ভাওয়াইয়া গানে তিনি অন্যরকমের সুর-আবেদন, প্রাণ খুঁজে পান। এছাড়া ওস্তাদ নুরুল ইসলাম জাহিদ যে ভাওয়াইয়া গান লিখতেন তা রাজার খুবই ভালো লাগতো। এভাবেই ভাওয়াইয়া গানের প্রতি সফউল আলম রাজার দূর্বলতা তৈরি হয়। পড়া-শোরার পাশপাশি গান-বাজনা নিয়ে বেশ মেতে ছিলেন সফিউল আলম রাজা। তারপর স্থানীয় এনজিওতে পার্টটাইম ও পরবর্তী সময়ে ফুলটাইম মিউজিক টিচারের কাজ করেন। একটা সময় রাগ করে চাকরি ছেড়ে দিয়ে বেশ দুরবস্থায় পড়ে যান রাজা। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষে চলে আসেন ঢাকায়। সম্বল কেবল গান ও লেখালেখি জানার গুণ। শুরু হয় বিভিন্ন পত্রিকায় ফিচার লেখা। আগেও স্থানীয় পত্রিকা গুলোতে লিখতেন। ঢাকায় এসে – আল মুজাদ্দেদ, জনকণ্ঠ, সংবাদ সহ আরো কিছু পত্রিকায় লেখালেখি। সময়ের ব্যবধানে সাংবাদিক হিসেবে একটা গ্রহণ যোগ্যতা তৈরি হয় তার। সাংবাদিকতার বিষয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন রাজা। এর মধ্যে ২০০০ সালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরস্কার, ২০০১ সালে ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল(টিআইবি) পুরস্কার, ২০০৩ সালে ক্রাইম রিপোর্টারর্স এসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড, ২০০৪ সালে ডেমক্রেসি ওয়াচ- এর হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড, ২০০৬ সালে ইউনেস্কোক্লাব এসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড উল্লেখ যোগ্য। বতর্মানে তিনি দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার। সাংবাদিকতার পাশাপাশি শত বাধা-বিপত্তিতেও গানের প্রতি ভালোবাসা ধরে রেখেছেন রাজা। গভীর রাতে বাসায় ফিরে তাই গান চর্চায় বসে যেতেন। ২০০১ সালে ধানমন্ডির আড়িয়াল সেন্টারে ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ শিরোনামে রাজার প্রথম একক সঙ্গীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে বিশ্বসঙ্গীত দিবস উপলক্ষ্যে অাঁলিয়স ফ্রসেজ রাজার একক সঙ্গীত সন্ধ্যা’র আয়োজন করেছিলো। এছাড়া ২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে সফউল আলম রাজার এককসংগীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।এছাড়াও বিভিন্ন টিভি-চ্যানেল ও মঞ্চে নিয়মিত গান করছেন রাজা।
বেঙ্গল বিকাশ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণরাজার সংগীত জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এ নিয়েও তার মজার ঘটনা রয়েছে। দৈনিক পত্রিকায় কালচার বিট করেন। বেঙ্গল বিকাশ প্রতিযোগিতার সংবাদ সম্মেলন কাভার করতে গিয়ে রাজা জানতে পারেন ‘বেঙ্গল বিকাশ’ নামে শিল্পীতের ট্যালেন্ট হান্টের কথা। এরপর তিনি নিজেই এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। আর এ প্রতিযোগিতায়ই লোকসঙ্গীত বিভাগে শ্রেষ্ঠ মান পেয়ে বিজয়ী হন সফউল আলম রাজা।
ভাওয়াইয়া গান নিয়ে অনেক পরিকল্পনা তার। এ গানকে নগরজীবনে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি সারা বিশ্বের বাংলাভাষাভাষি মানুষের কাছে জনপ্রিয় করতে চান তিনি। রাজার ভাষায় ‘ আমার মনে হয় ভাওয়াইয়ার প্রসারে প্রচার মাধ্যমগুলো সেভাবে এগিয়ে আসছে না। রেডিও, টেলিভিশনে আরো বেশি করে ভাওয়াইয়া গান প্রচার করা উচিত।’
সাংবাদিকতা এবং গান দুটি নিয়েই সৃষ্টিশীল স্বপ্ন দেখেন রাজা। আরো বহুদূর যেতে চান তিনি সফলতা নিয়ে।২০০৮ সালের ২২ এপ্রিল গানের দল ‘ভাওয়াইয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন রাজা। ইতিমধ্যে এই দলের উদ্যোগে রাজধানীতে ‘ছয়মাস ব্যাপী ভাওয়াইয়া কর্মশালা’ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও এই দলের প্রচেষ্ঠায় সরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে ‘পনের দিনব্যাপী ভাওয়াইয়া কর্মশালা’ সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সফিউল আলম রাজা ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘উত্তরের সুর’ ও ‘আদম হাওয়া’ সিনেমায় ৭টি ভাওয়াইয়া গেয়েছেন। ছবি দুটির পরিচালক শাহনেওয়াজ কাকলী ও রেজানুর রহমান। গত পহেলা বৈশাখে মুক্তি পেয়েছে উত্তরের সুর সিনেমাটি। প্রসঙ্গতঃ চার দশক আগে ফেরদৌসী রহমান ও রথীন্দ্রনাথ রায় সিনেমায় ভাওয়াইয়া গেয়েছেন। আর দীর্ঘ সময় পর দুটি সিনেমায় মৌলিক ভাওয়াইয়া গান করলেন সফিউল আলম রাজা। ২০১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী থেকে গানের দল ‘ভাওয়াইয়া’র পরিচালনায় রাজধানীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘ভাওয়াইয়া স্কুল’। স্কুল-এর পরিচালক ও প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন রাজা। রাজা বাংলাদেশ বেতারের বিশেষ ও টেলিভিশনের প্রথম শ্রেণীর শিল্পী। এছাড়াও দেশের প্রতিটি চ্যানেলেই তিনি নিয়মিত ভাওয়াইয়া পরিবেশন করে আসছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০১১ সালে ) ‘ভাওয়াইয়া গানে ঈদ আনন্দ’ নামে সফউল আলম রাজা’র একটি একক অনুস্ঠান প্রচার করে-যেটি দেশে-বিদেশে বেশ প্রশংসা পেয়েছে। এছাড়া বিদেশী চ্যানেলের মধ্যে কলকাতার ‘তারা মিউজিক’, ‘তারা নিউজ’, ‘কলকাতা টিভি’ সহ বেশ ক’টি চ্যানেলে ভাওয়াইয়া গেয়ে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন রাজা। দেশের প্রায় প্রতিটি চ্যানেলেই বিশেষ দিনে বিশেষ ভাওয়াইয়া পরিবেশন করে থাকেন রাজা ও তার গানের দল ‘ভাওয়াইয়া’র সদস্যরা। বেশ কটি টিভি নাটকেও রাজা ভাওয়াইয়া গান দিয়ে টাইটেল করেছেন।
ইতিমধ্যে রাজার ভাওয়াইয়া গানের সাথে দেশের বিশিষ্ট নৃত্যপরিচালক কবিরুল ইসলাম রতন ও তার দল নাচ করে দেশের সংস্কৃতিমহলে দৃষ্টি কেড়েছেন।বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে রাজার একটি ‘মিক্সড অ্যালবাম’ এবং ‘ভায়োলিন মিডিয়া’ থেকে ‘কবর দেখিয়া যান’ শিরোনামে একক অ্যালবাম বেরিয়েছে। রাজার গানের দল ‘ভাওয়াইয়া’ এবং ‘ভাওয়াইয়া স্কু’ এর লক্ষ্য হচ্ছে-ভাওয়াইয়া গানের বিপুল ভান্ডারকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং বাংলাদেশ সহ সারাবিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী ও অন্যান্য মানুষের মধ্যে এই গান ছড়িয়ে দেয়া। রাজার ভবিষ্যত ইচ্ছে-আব্বাস উদ্দীনের গানের চিলমারী বন্দরে একদিন ‘ভাওয়াইয়া ইন্সটিটিউট’ প্রতিষ্ঠা পাবে। এর পাশেই থাকবে ‘ভাওয়াইয়া আকড়া’। ‘ভাওয়াইয়া ইন্সটিটিউট’-এ দেশ-বিদেশের ছেলে-মেয়েরা যাবেন ভাওয়াইয়া শিখতে। রাজা’র মমতা মাখা সুরে মোহিত শ্রোতারা তাকে ডাকেন ‘ভাওয়াইয়া রাজা’, আবার অনেকে ডাকেন ‘ভাওয়াইয়া গানের ফেরিওয়ালা’ বলে।রাজার এলাকায় বলেন ‘হামার ছাওয়া রাজা’। যে যে নামেই ডাকুক ; আমাদের রাজা এগিয়ে যাক-আরো দূর বহুদূর আমাদের ঐতিহ্যকে নিয়ে।

শুক্রবার, ১০ আগস্ট, ২০১২

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গণে গত ৫দিনে শতাধিক ঘরবাড়ী বিলীন


চিলমারী সংবাদ (১০ আগষ্ট, ২০১২) : চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙ্গণে গত ৫দিনে শতাধিক ঘরবাড়ী বিলীন হয়ে গেছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে কয়েক শত মানুষ। বন্যার পর ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে শুরু হয় তীব্র নদী ভাঙ্গণ। রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের বন্যার পর রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কালিরকুড়া থেকে নয়াবস পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটারব্যাপী এলাকায় নদীভাঙ্গণ শুরু হয়। নদী ভাঙ্গণে তাঁর ইউনিয়নের ২ শতাধিক পরিবারের প্রায় ৮‘শ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদীভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা করে জেলা উপজেলা পর্যায়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেয়া হলেও অদ্যবধি সরকারীভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। নদী ভাঙ্গণের শিকার মকবুল হোসেন (৬৫), বাবলু (৪৫), আব্দুল আজিজ (৫৫), রফিকুল (৪৫), মৌলত (৩৫), বানভাষা (২৫), তোজাম্মেল (৫৬) জানান, গত ৫দিনের অব্যাহত নদী ভাঙ্গণে প্রায় ২৫/৩০ লাখ টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নদী ভাঙ্গণের শিকার পরিবারগুলো খোলা আকাশের নীচে, কেউ কেউ আতœীয় স্বজনের বাড়ীতে, আবার অনেকে রাস্তার ধারে ঝুপড়ি-ধাপড়ি তুলে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন। তেতুলকান্দি জামে মসজিদ থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গণ ৮/১০ হাত অদূরে অবস্থান করছে।

চিলমারীতে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ


চিলমারী সংবাদ (১০ আগষ্ট, ২০১২) :
চিলমারীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। আজ দুপুরে চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের মুনকির বিলে ৩‘শ ৬০ কেজি এবং থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা গ্রামের মাটিয়ালের ছড়ায় ২‘শ ২২ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোন অবমুক্ত করা হয়েছে। এসময় উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান রানা, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সাত্তার, সাংবাদিক প্রভাষক জিয়াউর রহমান জিয়া, এস, এম নুরুল আমিন সরকার, রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাঈদুল ইসলাম মুকুল, ছাত্রনেতা নুর আলম, ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব পূর্ণতিথি উপলক্ষ্যে চিলমারীতে র‌্যালি


চিলমারী সংবাদ (১০ আগষ্ট, ২০১২) : ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র জন্মতিথি উপলক্ষ্যে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন মন্দিরে পূজা অর্চনা, তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন ও তারকব্রহ্ম নামযজ্ঞের আয়োজন করে। মন্দির ছাড়াও ঘরে ঘরে ভক্তরা উপবাস থেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা ও পূজা করেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ব্যানারে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলা কেন্দ্রীয় সার্বজনিন মন্দির সবুজপাড়া বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

কুড়িগ্রামে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বরাদ্দ বেড়েছে : কেটে যাচ্ছে মঙ্গা


চিলমারি সংবাদঃ
বর্তমান মহাজোট সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বরাদ্দ বেড়েছে। বেড়েছে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা এবং উপকার ভোগীর সংখ্যা। ফলে ক্রমেই মঙ্গাকে জয় করতে চলছে কুড়িগ্রামের মানুষ। এ কর্মসূচির আওতায় গত অর্থবছরে ২০১১-১২ কুড়িগ্রাম জেলায় সরকার বিভিন্ন দফতরের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার খাদ্যশস্য ও নগদ টাকা সহায়তা দিয়েছে। এই সহায়তা এর আগের অর্থবছরের (২০১০-১১) চেয়ে ৮৩ কোটি টাকা বেশি। ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতরের টিআর, কাবিখা, ভিজিএফ ও অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্প, মহিলাবিষয়ক দফতরের ভিজিডি, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও কর্মজীবী মহিলাদের ভাতা, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তি, বিআরডিবির একটি বাড়ি একটি খামার ও উত্তরাঞ্চলের হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্প, এলজিইডির পল­ী কর্মসংস্থান ও রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি, সমাজসেবা দফতরের মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি দেয়া হবে। এ ছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদফতরের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সহায়তা দেয়া হয়। ফলে জেলার মঙ্গা পরিস্থিতি কমেছে অনেকাংশে, যা বর্তমান সরকারের অন্যতম অর্জন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতরের অধীনে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির ২ পর্যায়ে ৪০ দিন করে কাজের সুযোগ পেয়েছে ৪৫ হাজার ৬১৮টি পরিবারের একজন করে কর্মক্ষম নারী-পুরুষ। এদের দৈনিক ১৭৫ টাকা করে মজুরি হিসেবে দেয়া হয়েছে ৩১ কোটি ৮৯ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা। এ কর্মসূচিতে নন-ওয়েজ খাতে দেয়া হয়েছে তিন কোটি ৫৪ লাখ ৮০ হাজার ৫২২ টাকা। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কর্মসূচিতে (টিআর) ২ হাজার ৯৯৪টি প্রকল্পে পাঁচ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন চাল-গম ব্যয় করা হয়েছে। এতে ২ লাখের মতো পরিবার পর্যায়ক্রমে কাজ পেয়েছেন। কাবিখার ৬৬৮টি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ২৯০ মেট্রিক টন চাল। এতে পর্যায়ক্রমে কাজ পেয়েছে এক লাখের মতো পরিবার। এসব খাদ্যশস্য দিতে সরকারি দর মোতাবেক ব্যয় হয়েছে ৩১ কোটি ৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা। দু’দফায় ভিজিএফ সুবিধা পেয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার পরিবার। এতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ২৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ৪৩ মেট্রিক টন চাল। ডিম ও পোনা ছাড়ার মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ২ হাজার ৫৭৬টি মৎস্যজীবী পরিবারকে ৬০ কেজি করে ৪৬ লাখ ৩ হাজার টাকা মূল্যের ১৫৫ মেট্রিক টন চাল সহায়তা দেয়া হয়েছে। মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের মাধ্যমে ভিজিডি কর্মসূচিতে ২৬ হাজার ৪৯৮টি পরিবারকে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে মোট ৯ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। মাতৃত্বকালীন ভাতা বাবদ ২১ হাজার ৬০০ জনকে দেয়া হয়েছে ৯ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। কর্মজীবী মহিলা ভাতা বাবদ ১ হাজার জনকে দেয়া হয়েছে ৪২ লাখ টাকা। সমাজসেবা দফতরের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা হিসেবে ৪ হাজার ৬২ জনকে ৯ কোটি ৭৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ১৭ হাজার ৯৭৮ জন দুস্থ মহিলাকে ভাতা বাবদ ৬ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার ৮০০ টাকা, প্রতিবন্ধী ভাতা বাবদ ৪ হাজার ২৫৭ জনকে ১ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ২০০ টাকা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি বাবদ ৪০০ জনকে ৫৪ লাখ ৮৪ হাজার ৯০০ টাকা দেয়া হয়েছে। বিআরডিবির মাধ্যমে একটি বাড়ি একটি খামার কর্মসূচিতে ১৮ হাজার ৮৮৪টি পরিবারকে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং উত্তরাঞ্চলের হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্পে ২ হাজার ১৬০ জনকে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া এলজিইডির পল­ী কর্মসংস্থান ও রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ২ হাজার ১৬০ দুস্থ মহিলা দৈনিক ৯০ টাকা করে মজুরি হিসেবে ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পেয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৩ হাজার ছাত্রছাত্রীকে উপবৃত্তি বাবদ দেয়া হয়েছে ২৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ের গড়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার ছাত্রছাত্রীর প্রত্যেককে স্কুল চলাকালীন প্রতিদিন ৭৫ গ্রাম করে পুষ্টি বিস্কিট পেয়েছে। এতে দেয়া হয়েছে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বিস্কিট। এ ছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে আড়াই লাখের মতো ছাত্রছাত্রীকে উপবৃত্তি হিসেবে দেয়া হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। এ ছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মাধ্যমে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী বেকার যুব ও যুব মহিলাকে ৭৬ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়ার পর ২ বছরের জন্য অস্থায়ীভাবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করা হয়। এতে অস্থায়ীভাবে চাকরি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮১৫ জন বেকার যুব ও যুব মহিলা।

সোমবার, ৬ আগস্ট, ২০১২

আমেরিকা প্রবাসী রহিমুজ্জামান সুমন চিলমারীবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতর এর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন


চিলমারী সংবাদঃ
চিলমারী উপজেলা যুবলীগের অন্যতম সদস্য আমেরিকা প্রবাসী রহিমুজ্জামান সুমন
চিলমারীবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতর এর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন । তাঁর পক্ষ থেকে ঝুলানো শুভেচ্ছা ব্যানার শোভা পাচ্ছে চিলমারীর বিভিন্ন এলাকায়। রহিমুজ্জামান সুমনের জন্
ম ১৯৭৯ সালের ৯ অক্টোবর চিলমারীতে। তিনি ১৯৯৮ সালে চিলমারী ডিগ্রি কলেজের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন।২০০২ সালে কারমাইকেল কলেজের ছাত্রলীগের যুগ্ন সম্পাদক ছিলেন। সেখান থেকে তিনি ২০০৬ সালে এম, এ শেষ করে চাকুরী জীবন শুরু করেন। অতঃপর রহিমুজ্জামান সুমন ২০০৯ সালে আমেরিকা চলে যান। আমেরিকা থেকেই স্বপ্ন দেখেন আধুনিক চিলমারী গড়ার। তাঁর সাথে কথা হলে তিনি জানান তাঁর স্বপ্ন গুলোর কথা... তাঁর স্বপ্ন গুলো হচ্ছে, ১. চিলমারীকে পৌরসভা করা।
২. চিলমারীতে আব্বাস উদ্দিনের একটি ভাস্কর্য করা।
৩. নদীর বাঁধার কাজ শেষ করা।
৪. চিলমারীর রাস্তাঘাট এর উন্নয়ন করা।
৫. খেলাধুলার উন্নয়নে চিলমারীতে একটি স্টেডিয়াম করা।
৬. মঙ্গা দূরীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন।
৭. মাদক মুক্ত চিলমারী গড়া।
৮.চিলমারীর মেধাবি শিক্ষার্থীদের বিত্তির জন্য একটা ফাউন্ডেশন করা।
৯. স্কুল ও কলেজ গুলোকে সরকারি করনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনসহ চিলমারী বাসীর সকল প্রানের দাবি গুলো বাস্তবায়ন করা তাঁর ইচ্ছা। তিনি দেশে ফিরে দেশসেবা করতে চান। সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন তিনি।


বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবীতে চিলমারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত


চিলমারী সংবাদ (০৬ আগষ্ট, ২০১২) : বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবীতে চিলমারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চিলমারী উপজেলা শাখার উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ মোড়ে চিলমারী- কুড়িগ্রাম সড়কে একটি বিশাল মানব প্রাচীর গড়ে তোলে। এসময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ সরকার ও ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ মাঈদুল ইসলাম মুকুল বক্তব্য রাখেন। বক্তাগণ, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসীর রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দাখিল করা হয়।

শনিবার, ৪ আগস্ট, ২০১২

ডেসটিনি ও লাক্সার প্রতারণার শিকার নাগেশ্বরীর কয়েক হাজার মানুষ: ১৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ


কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানী ডেসটিনি ২০০০ লি: ও লাক্সার গ্লোবাল এন লিমিটিডের প্রতারণার শিকার হয়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। তাদের প্রায় ১৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কোম্পানি ২টি। প্রতারনার শিকার অসহায় লোকজন টাকা ফেরতের জন্য অফিসটিতে ধর্না দিলেও কর্মকর্তাদের দেখা মিলছে না। তারা সুযোগ বুঝে মাঝে মাঝে শুধুমাত্র সন্ধ্যার দিকে অল্প সময়ের জন্য অফিসে আসছেন। জানা গেছে, কয়েক বছর আগে হরানন্দ রায়, সাইফুর রহমান, আব্দুল লতিফসহ কয়েকজন ডেসটিনি ২০০০ লি: নাগেশ্বরীতে নিয়ে আসে। বিভিন্ন জায়গায় অফিস স্থানান্তরিত করে বর্তমানে নাগেশ্বরী খাদ্য গোডাইউনের সামনের একটি ভাড়া বাসায় স্থাপন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা নাগেশ্বরী কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষজনকে দ্রুত কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে থাকে। তাদের প্রতারণা বুঝতে না পেরে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ ডেসটিনি কোম্পানীতে প্রায় ১১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। এক পর্যায়ে ঐ সময়ের ডেসটিনির নেতৃত্বদানকারীদের অন্যতম নাগেশ্বরী পৌরসভার সচিব হরানন্দ রায় প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এমন অভিযোগে ডেসটিনির উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ ২০১১ সালে তাকে বহিস্কার করে। পরবর্তীতে প্রতারণার নতুন ফাঁদ পেতে ঐ বছরের মাঝামাঝি সময়ে একইভাবে প্রতারনার উদ্যেশ্যে লাক্সার গ্লোবাল এন লিমিটিডেটের কর্মকর্তা সেজে নাগেশ্বরী পৌরসভার সচিব হরানন্দ রায় নাগেশ্বরী বাস

বুধবার, ১ আগস্ট, ২০১২


অভাব দমিয়ে রাখতে পারেনি চিলমারীর সুফিয়া আক্তারকে

চিলমারী সংবাদ :
অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হলেও মনের অদম্য ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি অভাব। শত পিছু টানকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র মনের জোড়েই সাফল্যকে নিজের মতো করে ঘরে তুলে নিয়েছে মেয়েটি। একাগ্রতা আর পরিশ্রমের মাধ্যমেই সৌভাগ্যকে যেন সে স্পর্শ করেছে। এসএসসিতে ৪.৯৪ পেয়েও জিপিএ হাত ছাড়া হয়েছিল বলে ব্যর্থতার অতল গহব্বরে নিজেকে হারিয়ে যেতে দেয়নি সে। শুধুমাত্র ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এবং চিলমারী মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষকদের সহযোগিতায় শত অভাবের মাঝেও এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার এক রিক্সা চালকের মেয়ে সুফিয়া আক্তার।
রিক্সা চালক রফিকুল ইসলামের বড় মেয়ে সুফিয়া। চার ভাই-বোনের টানাটানির সংসার। বাবা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে সামান্য টাকা রোজগার করে তা দিয়ে দু’বেলা ঠিক মতো পেটের ভাতই জোটেনা। অধিকাংশ সময়ই মা-বাবা, ভাই-বোনকে নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হয়। ভূমিহীন পিতা রফিকুল ইসলাম উপজেলার রমনা রেল লাইনের পার্শ্বে কোনও রকমে একটি খড়ের ঘর তুলে সন্তানদেরকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সুফিয়া আক্তার জানায়, সেই খড়ের ঘরেই গাদাগাদি করে তাদেরকে থাকতে হয়। বড় ভাই লাল মিঞা চিলমারী ডিগ্রী কলেজে বি.কম দ্বিতীয় বর্ষে পড়া লেখা করছে। বাবার সামান্য আয়ে সংসার চলেনা জন্য নিজে পড়াশুনার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়ে যে অর্থ আয় করে তা থেকেই ছোট ভাই বোনদের লেখাপড়ার পিছনে তা ব্যয় করে। সুফিয়া জানায়, বড় ভাইয়ের সহযোগিতা না পেলে তার পক্ষে জিপিএ-৫ পাওয়া সম্ভব ছিল না। পাশাপাশি কলেজের ইংরেজী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুল মতিনের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করে সুফিয়া জানায়, এই দুইজন শিক্ষক তাকে বিনা টাকায় প্রাইভেট পড়িয়েছে, বিভিন্ন নোট দিয়ে সহযোগিতা করেছে। তার ইচ্ছা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাল কোনও বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করে ভবিষ্যৎ এ নিজেকে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত করা।

ব্রহ্মপুত্রের বুকে চিলমারী ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান

চিলমারী সংবাদ :
কুড়িগ্রামের চিলমারী ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ব্রহ্মপুত্র নদীর বুকে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টির পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে ।
সম্প্রতি স্কুল ভবনটি ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হবার পর থেকে নদীর পাড়েই সাবেক এক ইউপি সদস্যর বাড়ীর আঙ্গিনায় খোলা আকাশের নিচে স্কুলটির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফলে মহা বিপদে পরেছে স্কুলটির শিক্ষকমন্ডলী। শিক্ষিকা মোছাঃ শারমিন আকন্দ ছন্দা জানান, এই গরমে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেওয়ার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া লেখায় মনোযোগ থাকছে না। ক্লাস নিতেও অসুবিধা হচ্ছে। ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোকছেদুল, আইরিন, খোকন জানায়, আর মাত্র ৫মাস পর তাদের সমাপনী পরীক্ষা- এ রকম পরিবেশে তারা মোটেও পড়ালেখায় মনোযোগী হতে পাচ্ছেনা। তারা আরো জানায়, রোদে কষ্ট করে ক্লাস করা গেলেও বৃষ্টি হলে ভেজা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করায় বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে প্রধান শিক্ষিকাসহ ৭জন শিক্ষক স্কুলটিতে কর্মরত আছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: লিলুফা ইয়াসমিন জানান, বর্তমানে ক্লাস নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় বর্তমানে সাবেক ই্উপি সদস্য সুজা মিয়ার বাড়িতে খোলা আকাশের নিচে মাটিতে অস্থায়ী ভাবে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করলে আমরাই বা কি করবো, ভেবে পাচ্ছিনা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সম্ভু চরন দাস এর মুখোমুখি হলে তিনি বলেন, এলাকাবাসী অস্থায়ীভাবে ক্লাসের ব্যবস্থা করেছেন। স্থায়ী জায়গা ও অবকাঠামো সমস্যার কথা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অতিসত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।