বুধবার, ৩ অক্টোবর, ২০১২

কোনটি ঠিক ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ নাকি ‘অর্ধেক তোমার অর্ধেক হামার’


সাওরাত হোসেন সোহেলঃ


‘একটি বাড়ি একটি খামার’ এই শ্লোগান এখন বদলে হয়েছে ‘অর্ধেক তোমার অর্ধেক হামার!’ চিলমারী উপজেলার পিছিয়ে পড়া হত- দরিদ্র জনগোষ্ঠী খানা মানদন্ড অনুযায়ী (গ্রামের দরিদ্র নারী যিনি খানা প্রধান, শুধু বসত ভিটা আছে এমন খানা, ভিটে বাড়ি সহ ৫০ শতক জমি আছে এমন ব্যক্তি যার নিয়মিত আয়ের উৎস নেই) ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পে অন্তভুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও তালিকা জুড়ে নাম রয়েছে প্রভাবশালীদের। সব মিলে দুর্নীতির বীজ দিয়ে যেন শুরু হয়েছে এই প্রকল্পের কাজ।
মহাজোট সরকার প্রধান ঘোষিত একটি বাড়ী একটি খামার”-প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মানুষের উন্নয়নের লক্ষে প্রথম পর্যায়ে থানাহাট, রমনা মডেল, রানীগঞ্জ ও চিলমারী মোট ৪টি ইউনিয়নের ৩৬টি দল গঠন করে প্রতিটি দলে ৬০জন করে নেওয়া হয়। ২ হাজার ১ শত ৬০ বাড়ী অন্তরর্ভুক্ত করে কাজ শুরু করলেও, লুঠে-পুঠে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নাম ধারী দলীয় নেতা/কর্মী ও কিছু প্রাভাবশালীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রভাবে মেম্বার, চেয়ারম্যান, প্রকল্প বাস্তুবায়নকারী বিআরডিবি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনিয়ম ও দুর্নীতির ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না প্রকল্প আওতায় সুবিধাভোগী মানুষগুলো। ফলে প্রকল্পের মূল ল্য অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
অফিস সুত্রে জানা গেছে, ইতি মধ্যে দালালী পাড়া দলে ২লাখ ২০ হাজার, কড়াই বরিশাল গ্রামে ১লাখ ২০ হাজার, ঢুষ মারা গ্রামে ১লাখ ২০ হাজার, শাখাহাতি গ্রামে ১লাখ ৮৬ হাজার মনতোলা গ্রামে ১লাখ ২০ হাজার টাকা সহ ২৬দলে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার সল্প সুদে ঋণ বিতরন করা হয়েছে। বাকি রয়েছে ১০টি দল। এ দলগুলো দেখা শুনার দায়িত্বে রয়েছে বিআরডিপি’র সমন্নয় কারী সিরাজুল ইসলাম (অতিঃ দাঃ), অফিস সহকারী নাজমুন নাহার, মাঠকর্মী আহসান হাবিব।
কয়েকটি দলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দায়িত্ব প্রাপ্তরা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে কিছু প্রাভাবশালীদের সহযোগীতায় বিভিন্ন দল থেকে সরকারী নিয়ম-নীতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করে আসছে। এই ঋণ দেওয়ার ওজুহাতে নতুন সদস্য ভর্তির কথা বলে দায়িত্বপ্রাপ্তরা ও বিভিন্ন দলের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক অফিসের কথা বলে নতুন ও পুরাতন সদস্যদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১৫০০/= টাকা পর্যন্ত উৎকোচ গ্রহন করেছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
রমনা খামার এলাকার আঃ রহিম জানায় সে এবারে নতুন সদস্য হওয়ার সময় ১৫০০ টাকা নিয়েছে দলের ম্যানেজার। মাছাবান্দা দলের জমিলা জানায়, নাম নেওয়ার সময় মশিউর মেম্বার ৩হাজার টাকা নিয়েছে আরো টাকা চেয়েছিল গরু দিবের কথা বলে না দিতে পারায় ১২টি গাছ দিয়েছিল সেগুলোও সব মরে গেছে। একই এলাকার রোজিনা, জোবেদা সহ কয়েক জন জানান, অফিসের কথা বলে তাদেরও কাছ থেকে মেম্বার ৩ হাজার টাকা নিয়েছে।
বিভিন্ন দল ও এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মেম্বার ও এই প্রকল্পের দায়িত্ব প্রাপ্তরা অফিসের কথা বলে বিভিন্ন সময় নানান অজুহাত দেখিয়ে সদস্যদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহন করেছে।
দল থেকে বের হয়ে আসা ফকির পাড়া এলাকার জহর উদ্দিন জানান, এ কথা আর কন না বাহে একটি বাড়ি একটি খামার মানে ‘অর্ধেক হামার অর্ধেক তোমার’। হামরা কি আর পাই সব অফিসার আর দায়িত্বে যামরা আছে তামরায় পায়।
অভিযুক্ত থানাহাট ইউনিয়নের ৯নং ওয়াডের মেম্বার মশিউর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এটা তো অনেকদিন আগের কথা অন্যরাতো ৫হাজার থেকে ১০হাজার টাকা নিয়েছে সুবিধাভুগীদের কাছে সেটা দেখননা। কিন্তু দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী, সমন্নয়ককারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ঢাকায় আছে বলে জানান।
এ ব্যাপারে আরডিও মোঃ সামজিদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এর আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন সেই সময় দল হয়েছে ২০টি সেই সময় কিছু দুর্নীতি হয়েছে। আর আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর দল হয়েছে ১৬টি এগুলোর কোন দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
পরে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান জানান, আমি এখনো কোন অভিযোগ পায়নি পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সুত্রঃ http://www.kurigramnews.net 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন