বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১২

চিলমারীতে বাঁশ ও বেতের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত

চিলমারী সংবাদঃ

পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর অর্থায়নে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে মঙ্গা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ (সংযোগ) কর্মসূচীর আওতায় বাঁশ ও বেতের কাজ বিষয়ক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়েছে। থানাহাট ইউনিয়ন সমাজ কল্যাণ সংস্থার হলরুমে আরডিআরএস বাংলাদেশের চিলমারী এলাকা ব্যবস্থাপক মোঃ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রকল্প ব্যবস্থাপক এস,এম আলমাস, আইজিএ অফিসার মোঃ শাহীন মিঞা, বহরেরভিটা শাখা ব্যবস্থাপক শেফালী বেগম, প্রশিক্ষক আলমগীর হোসেন, সাংবাদিক এস, এম নুরুল আমিন সরকার, প্রভাষক জিয়াউর রহমান জিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। গত ১১ নভেম্বর ২০১২ তারিখে ১২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়। পরে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদেরকে জনপ্রতি ২ হাজার ৬‘শ ৪০ টাকা করে প্রদান করা হয়।

শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১২

চিলমারীতে অলৌকিক ক্ষমতাধর এক শিশুর আর্বিভাব রোগ মুক্তির আশায় হাজার হাজার মানুষ ছুটছে তার কাছে

চিলমারী সংবাদঃ
অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী সাড়ে তিন বছরের শিশুটিকে নিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে কৌতুহল বেড়েই চলেছে। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ রোগ মুক্তির আশায় ছুটে আসছে শিশিুটির কাছে। রোগীদের অনেকেরই দাবী শিশুটির দেওয়া পড়া পানি ও তেল এবং ঝার- ফু’কে দীর্ঘ দিনের পুরাতন অসুখ থেকে তাদের মুক্তি মিলছে। ঘটনাটি ঘটছে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মুদাফৎ কালিকাপুর হাজীপাড়া গ্রামে।
শিশুটির মা মোছাঃ সুন্দরী বেগমের (২৮) দাবী সুমন জন্ম সূত্রেই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। পিতা সাইদুর রহমান জানান, তাদের আদি নিবাস ছিল চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের মুদাফৎকালিকাপুর হাজীপাড়া গ্রামে। গত বছর নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামে তার মামার বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানেই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী শিশুপুত্র সুমনের জন্ম হয় । সুমনের মা জানায়, শিশুটির বয়স যখন ৪০ দিন, তখন হঠাৎ তাকে আল্লাহ্‌   আল্লাহ্‌ বলে জেকের করতে দেখে অবাক হয় সে। এর এক বছর পর সুমন যখন কথা বলতে শেখে তখনই প্রথম সে পানি পড়া, তেল পড়া ও ঝার-ফু দিয়ে তার মা এবং অসুস্থ্য ফুফুকে সুস্থ্য করে তোলে। এর পর পরই শিশুটির অলৌকিক ক্ষমতার কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পরে । দূর -দূরান্ত থেকে অসুস্থ্য লোকজন শিশুটির নিকট আসতে থাকে। এই সুযোগে উক্ত এলাকার একটি মহল অলৌকিক শিশু ও তার হত দরিদ্র পরিবারটিকে ঘিরে এক ধরনের ব্যবসা পেতে বসে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হলে,কুড়িগ্রাম পুলিশ প্রশাসনের পÿ থেকে শিশুটি ও তার পরিবারকে তাদের আদি নিবাস চিলমারীতে পাঠিয়ে দেয়।
রৌমারী,রাজীবপুর,জামালপুর,চিলমারী,উলিপুর,রাজারহাট,নাগেশ্বরী,ফুলবারী,ভ‚রুঙ্গামারীসহ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা ছুটে আসছে শিশুটি’র কাছে। সরেজমিনে গিয়ে দূর দূরান্ত থেকে আগত রোগীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, অলৌকিক ÿমতা সম্পন্ন শিশু সুমন শুধু পানি পড়া, সরিষার তেল পড়া আর ঝার-ফু দেয়। এর বিনিময়ে সে কোনও পারিশ্রমিক কিংবা টাকা পয়সা নেয় না। গ্রামবাসীরা স্থানীয় মসজিদ ও মোক্তবের উন্নয়নের জন্য একটি দান বাক্্র বসিয়ে দিয়েছে। আগত লোকজন খুশি হয়ে সেখানে যা দান করে সেটাই আর্থিক সংগ্রহ। আর্থিক সংগ্রহ যাই হোকনা কেন, শিশুটিকে ঘিরে অনেক মানুষের আয়ের পথ সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যন্ত এই চরাঞ্চলে এখন হোটেল ,পানের দোকান সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। শিশুরা দূর দূরান্ত থেকে আগত মানুষের মাঝে বিক্রি করছে তেল ও পানির বোতল। জানাগেছে, দিনে ১’শ টি তেলের বোতল বিক্রি করতে পারলে তাদের ৩০০/- টাকা লাভ হচ্ছে। অপরদিকে রমনা নৌঘাট থেকে দিনে মাত্র দু’টি নৌকা অষ্টমীরচর আসতো। তাতে নৌকার মাঝিদের খরচ বাদ দিয়ে ৫ /৬’শ টাকা টিকতো। বর্তমানে দিনে তাদেরকে ৮-৯ বার নদী পারি দিতে হচ্ছে । এতে প্রতি নৌকার মাঝিদের ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা লাভ টিকছে। নৌকার সংখ্যাও বেড়ে গেছে, যেমনটা বেড়ে গেছে মানুষের আসা-যাওয়ার সংখ্যা।
মুদাফৎ কালিকাপুর এলাকার ইমদাদুল হক (১৭),রাজীবপুর উপজেলার শিকারপুর গ্রামের আবু আসাদ (২১), থানাহাট ইউনিয়নের নয়াবাড়ী গ্রামের নুরুজ্জামান (৫০),মুদাফৎ কালিকাপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম (৩৯),একই গ্রামের মোছাঃ আছিয়া (৩৫), রমনা ইউনিয়নের চর পাত্রখাতা গ্রামের ছালমা বেগম (৩২), একই গ্রামের মোছাঃ ময়ফুল (৩৩), রৌমারী উপজেলার টাপুরচর এলাকার আব্দুল ছাত্তার (৬৪),একই গ্রামের মোজাম্মেল (৪০),রৌমারী উপজেলার তালুকার চর গ্রামের আবুল কাশেম (৩৫) ও কোদালকাটি গ্রামের এমদাদুল হক (৬০) এর সাথে কথা বলে জানাগেছে,তারা কেউ কেউ পেটের অসুখ, মাথা ব্যাথা,বুকের ব্যাথা, চোখের সমস্যা ও পক্ষাঘাত রোগে ভোগছিল। অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন শিশুটির পানি ও তেল পড়া ও ঝার ফু’র মাধ্যমে বর্তমানে সুস্থ্য হয়ে গেছে।
অনেকে আবার শিশুটির অলৌকিক ক্ষমতা সর্ম্পকে সন্দিহান। তাদের ধারনা এটা পয়সা রোজগারের জন্য এক ধরনের ফাঁদ পাতা হয়েছে। এ ব্যাপারে অষ্টমীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ সোহরাব হোসেনের মুখোমুখি হলে তিনি জানান, ঝার-ফু, পানি পড়া ও তেল পড়ার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড  বন্ধ করার জন্য তার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে ইতোমধ্যে নোটিশ প্রদান করা হলেও, লোকজন কোনও কথা শুনছে না ও মানছেনা। তারা উপকার পাচ্ছে দাবী করে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ ভীর জমাচ্ছে শিশুটির বাড়ীতে।
মোঃ ফজলুল হক
চিলমারী,কুড়িগ্রাম
০১৭১১-৪১৪৫৭৫

সোমবার, ৫ নভেম্বর, ২০১২

পেটের ভোকে ভিক্ষা করং-বাঁচা তো নাইগবে…


পেটের ভোকে ভিক্ষা করং-বাঁচা তো নাইগবে… thumbnail

সাওরাত হোসেন সোহেল:
সমাজের ভূমিহীন ও বিত্তহীন এবং বার্ধক্যজনিত কারনে শারীরিক পরিশ্রমে অক্ষম হলেও সরকারী কোন ভাতা মেলেনি থানাহাট ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কিসামতবানু এলাকার বাসিন্দা তফিরন বেওয়ার ( ৯০)। তফিরন বেওয়াদের দাম নেই জনপ্রতিনিধিদের কাছে। শুধু দাম বাড়ে ভোটে। তাই সরকারী কোন ভাতা মেলেনি তার। দারিদ্রতা ও রোগ- শোকের কাছে হার মানা তফিরন বেওয়ার বয়সের ছাপ যেন বলছে, ‘আর কত বয়স হলে সরকারী ভাতা মেলে’? পেটের দায়ে নুইয়ে পড়া শরীরে হাতে লাটির ভর করে অসুস্থ শরীর নিয়ে চলতে হচ্ছে অন্যের দ্বারে দ্বারে; এক মুঠো ভীক্ষে পেতে। জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে মেলেনি সরকারী ভাতা।
নিষ্টুর নিয়তীর কাছে হার মানা তফিরন বেওয়া স্বামী শখের আলীকে হারিয়েছেন প্রায় ৩৫ বছর আগে। স্বামীকে হারিয়ে নানা প্রতিকূলতার মাঝে অন্যের বাড়িতে কাজ করে একমাত্র সন্তানকে ঘিরে নিজের সুখ আহলাদ ভুলে সংগ্রামী জীবন মুখী। অর্থনৈতিক দৈন্যদশার কাছে হার মানা তফিরন বেওয়া একমাত্র ছেলেকে শিক্ষা-দ্বীক্ষায় উপযুক্ত করতে না পারলেও ছেলেকে বিপথে যেতে দেননি। এর পর ছেলেকে বিয়ে দিয়ে ছেলের বউ ঘরে আনেন। ভেবেছিলেন এবার হয়তো তার মুক্তি হবে জীবন নামের সংগ্রামশীলতা থেকে। কিছুদিন কাঁটে ছেলের সংসারে। নিষ্ঠুর নিয়তি এবারও তার সাথে পরিহাস করে। সংসারের একমাত্র কর্মক্ষম ছেলে নিজেই হয়ে জান পরনির্ভরশীল। প্যারালাইসিস রোগি হয়ে কাটাতে হচ্ছে বিছানায় শুয়ে শুয়ে, অন্যের করুণার পাত্র হয়ে। স্ত্রী, কন্যা ও দুই ছেলেকে  নিয়ে পরে যায় বিপাকে। কর্মক্ষমতা হারিয়ে দারিদ্র্যের নির্মম কশাঘাতে পিষ্ট হয়ে করতে হচ্ছে মানবেতর জীবন যাপন। আর এই নিষ্ঠুর নির্মমতায় কাটাতে হয় তফিরন বেওয়াকে। ছেলের সংসারে জোটে না তার এক মুঠো আহার। তাই আবার নামতে হয়েছে তফিরন বেওয়াকে জীবন নামের সংগ্রামে। এক মুঠো আহারের খোঁজে। কিন্তু বাস্তবতার কাছে হার মানা তফিরন বেওয়া বয়সের ভার আর রোগ-শোকে জর্জরিত কর্মমূখীতায় নয় পাড়া-পড়শির দ্বারে দ্বারে ভিক্ষে চেয়ে।
কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে মেলেনি কোন সরকারী ভাতা। জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাম নেই তকিরন বেওয়াদের। কেবলই দাম বাড়ে ভোটে। যে জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় তকিরন বেওয়াদের কাছে ভোট ভিক্ষা প্রার্থনা করে ভোট শেষে তাদেরই কাছে কোন দাম নেই। তাই সরকারী কোন ভাতায় ঠাই মেলেনি তফিরন বেওয়ার।
সরকারী কোন ভাতা পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তফিরন বেওয়া জানায়- হামার টেকা নাই ধরাইয়া নাই হামাক গুলেক কি কার্ড দেয়! মেম্বাররা খালি আশা দেয়, কয় দেম দেম, কোন দিন দিবে তাক কয় না। পেটের ভোকে ভিক্ষে করবের যাওয়া নাগে, নাতে খাইম কি? বেশিক্ষন হাইটপের পাংনা টলি পরং। তাতো যাওয়া নাগে পেট তো আর মানে না। কোন দিন মেম্বার হামাক দেকপের আইসে না ভোটের আগে সবাই আইসে এখন হামাক যাওয়া নাগে।

বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর, ২০১২

দুরপাল্লার বাস ও মিনিবাসের স্থায়ী টার্মিনালের দাবিতে চিলমারীতে মানববন্ধন

দুরপাল্লার বাস ও মিনিবাসের স্থায়ী টার্মিনালের দাবিতে চিলমারীতে মানববন্ধন thumbnail
চিলমারী সংবাদঃ 

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাসের স্থায়ী টার্মিনালের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  চিলমারী সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্তরের সামনে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে মটর শ্রমিক ইউনিয়ন, চিলমারী এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একাত্বতা ঘোষনা করে।
সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মমিনুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা এম উমর ফারুকের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন চিলমারী প্রেস কাবের উপদেষ্টা সদস্য আমজাদ হোসেন, সাধারন সম্পাদক শ্যামল কুমার বম্মর্ন, মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আঃ রহিম, লোড আনলোড ইউনিয়নের সভাপতি বাদশা আলমগীর, সাধারন সম্পাদক মুকুল মিয়া, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুল হক, চিলমারী প্রেস এ্যাসোসিয়েশন সাধারন সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সহ-সাধারন সম্পাদক মনিরুল আলম লিটু, সাংবাদিক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রভাষক মামুন-অর-রশিদ, সাধারন সম্পাদক মোঃ সাওরাত হোসেন সোহেল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন সময়ের ব্যবধানে সরকারের পরিবর্তন আসে কিন্তু চিলমারীবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন আসেনি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চিলমারীতে স্থায়ী টার্মিনাল না হলে লাগাতার কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে।