সোমবার, ৫ নভেম্বর, ২০১২

পেটের ভোকে ভিক্ষা করং-বাঁচা তো নাইগবে…


পেটের ভোকে ভিক্ষা করং-বাঁচা তো নাইগবে… thumbnail

সাওরাত হোসেন সোহেল:
সমাজের ভূমিহীন ও বিত্তহীন এবং বার্ধক্যজনিত কারনে শারীরিক পরিশ্রমে অক্ষম হলেও সরকারী কোন ভাতা মেলেনি থানাহাট ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কিসামতবানু এলাকার বাসিন্দা তফিরন বেওয়ার ( ৯০)। তফিরন বেওয়াদের দাম নেই জনপ্রতিনিধিদের কাছে। শুধু দাম বাড়ে ভোটে। তাই সরকারী কোন ভাতা মেলেনি তার। দারিদ্রতা ও রোগ- শোকের কাছে হার মানা তফিরন বেওয়ার বয়সের ছাপ যেন বলছে, ‘আর কত বয়স হলে সরকারী ভাতা মেলে’? পেটের দায়ে নুইয়ে পড়া শরীরে হাতে লাটির ভর করে অসুস্থ শরীর নিয়ে চলতে হচ্ছে অন্যের দ্বারে দ্বারে; এক মুঠো ভীক্ষে পেতে। জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে মেলেনি সরকারী ভাতা।
নিষ্টুর নিয়তীর কাছে হার মানা তফিরন বেওয়া স্বামী শখের আলীকে হারিয়েছেন প্রায় ৩৫ বছর আগে। স্বামীকে হারিয়ে নানা প্রতিকূলতার মাঝে অন্যের বাড়িতে কাজ করে একমাত্র সন্তানকে ঘিরে নিজের সুখ আহলাদ ভুলে সংগ্রামী জীবন মুখী। অর্থনৈতিক দৈন্যদশার কাছে হার মানা তফিরন বেওয়া একমাত্র ছেলেকে শিক্ষা-দ্বীক্ষায় উপযুক্ত করতে না পারলেও ছেলেকে বিপথে যেতে দেননি। এর পর ছেলেকে বিয়ে দিয়ে ছেলের বউ ঘরে আনেন। ভেবেছিলেন এবার হয়তো তার মুক্তি হবে জীবন নামের সংগ্রামশীলতা থেকে। কিছুদিন কাঁটে ছেলের সংসারে। নিষ্ঠুর নিয়তি এবারও তার সাথে পরিহাস করে। সংসারের একমাত্র কর্মক্ষম ছেলে নিজেই হয়ে জান পরনির্ভরশীল। প্যারালাইসিস রোগি হয়ে কাটাতে হচ্ছে বিছানায় শুয়ে শুয়ে, অন্যের করুণার পাত্র হয়ে। স্ত্রী, কন্যা ও দুই ছেলেকে  নিয়ে পরে যায় বিপাকে। কর্মক্ষমতা হারিয়ে দারিদ্র্যের নির্মম কশাঘাতে পিষ্ট হয়ে করতে হচ্ছে মানবেতর জীবন যাপন। আর এই নিষ্ঠুর নির্মমতায় কাটাতে হয় তফিরন বেওয়াকে। ছেলের সংসারে জোটে না তার এক মুঠো আহার। তাই আবার নামতে হয়েছে তফিরন বেওয়াকে জীবন নামের সংগ্রামে। এক মুঠো আহারের খোঁজে। কিন্তু বাস্তবতার কাছে হার মানা তফিরন বেওয়া বয়সের ভার আর রোগ-শোকে জর্জরিত কর্মমূখীতায় নয় পাড়া-পড়শির দ্বারে দ্বারে ভিক্ষে চেয়ে।
কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে মেলেনি কোন সরকারী ভাতা। জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাম নেই তকিরন বেওয়াদের। কেবলই দাম বাড়ে ভোটে। যে জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় তকিরন বেওয়াদের কাছে ভোট ভিক্ষা প্রার্থনা করে ভোট শেষে তাদেরই কাছে কোন দাম নেই। তাই সরকারী কোন ভাতায় ঠাই মেলেনি তফিরন বেওয়ার।
সরকারী কোন ভাতা পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তফিরন বেওয়া জানায়- হামার টেকা নাই ধরাইয়া নাই হামাক গুলেক কি কার্ড দেয়! মেম্বাররা খালি আশা দেয়, কয় দেম দেম, কোন দিন দিবে তাক কয় না। পেটের ভোকে ভিক্ষে করবের যাওয়া নাগে, নাতে খাইম কি? বেশিক্ষন হাইটপের পাংনা টলি পরং। তাতো যাওয়া নাগে পেট তো আর মানে না। কোন দিন মেম্বার হামাক দেকপের আইসে না ভোটের আগে সবাই আইসে এখন হামাক যাওয়া নাগে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন