শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১২

চিলমারীতে অলৌকিক ক্ষমতাধর এক শিশুর আর্বিভাব রোগ মুক্তির আশায় হাজার হাজার মানুষ ছুটছে তার কাছে

চিলমারী সংবাদঃ
অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী সাড়ে তিন বছরের শিশুটিকে নিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে কৌতুহল বেড়েই চলেছে। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ রোগ মুক্তির আশায় ছুটে আসছে শিশিুটির কাছে। রোগীদের অনেকেরই দাবী শিশুটির দেওয়া পড়া পানি ও তেল এবং ঝার- ফু’কে দীর্ঘ দিনের পুরাতন অসুখ থেকে তাদের মুক্তি মিলছে। ঘটনাটি ঘটছে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মুদাফৎ কালিকাপুর হাজীপাড়া গ্রামে।
শিশুটির মা মোছাঃ সুন্দরী বেগমের (২৮) দাবী সুমন জন্ম সূত্রেই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। পিতা সাইদুর রহমান জানান, তাদের আদি নিবাস ছিল চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের মুদাফৎকালিকাপুর হাজীপাড়া গ্রামে। গত বছর নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামে তার মামার বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানেই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী শিশুপুত্র সুমনের জন্ম হয় । সুমনের মা জানায়, শিশুটির বয়স যখন ৪০ দিন, তখন হঠাৎ তাকে আল্লাহ্‌   আল্লাহ্‌ বলে জেকের করতে দেখে অবাক হয় সে। এর এক বছর পর সুমন যখন কথা বলতে শেখে তখনই প্রথম সে পানি পড়া, তেল পড়া ও ঝার-ফু দিয়ে তার মা এবং অসুস্থ্য ফুফুকে সুস্থ্য করে তোলে। এর পর পরই শিশুটির অলৌকিক ক্ষমতার কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পরে । দূর -দূরান্ত থেকে অসুস্থ্য লোকজন শিশুটির নিকট আসতে থাকে। এই সুযোগে উক্ত এলাকার একটি মহল অলৌকিক শিশু ও তার হত দরিদ্র পরিবারটিকে ঘিরে এক ধরনের ব্যবসা পেতে বসে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হলে,কুড়িগ্রাম পুলিশ প্রশাসনের পÿ থেকে শিশুটি ও তার পরিবারকে তাদের আদি নিবাস চিলমারীতে পাঠিয়ে দেয়।
রৌমারী,রাজীবপুর,জামালপুর,চিলমারী,উলিপুর,রাজারহাট,নাগেশ্বরী,ফুলবারী,ভ‚রুঙ্গামারীসহ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা ছুটে আসছে শিশুটি’র কাছে। সরেজমিনে গিয়ে দূর দূরান্ত থেকে আগত রোগীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, অলৌকিক ÿমতা সম্পন্ন শিশু সুমন শুধু পানি পড়া, সরিষার তেল পড়া আর ঝার-ফু দেয়। এর বিনিময়ে সে কোনও পারিশ্রমিক কিংবা টাকা পয়সা নেয় না। গ্রামবাসীরা স্থানীয় মসজিদ ও মোক্তবের উন্নয়নের জন্য একটি দান বাক্্র বসিয়ে দিয়েছে। আগত লোকজন খুশি হয়ে সেখানে যা দান করে সেটাই আর্থিক সংগ্রহ। আর্থিক সংগ্রহ যাই হোকনা কেন, শিশুটিকে ঘিরে অনেক মানুষের আয়ের পথ সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যন্ত এই চরাঞ্চলে এখন হোটেল ,পানের দোকান সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। শিশুরা দূর দূরান্ত থেকে আগত মানুষের মাঝে বিক্রি করছে তেল ও পানির বোতল। জানাগেছে, দিনে ১’শ টি তেলের বোতল বিক্রি করতে পারলে তাদের ৩০০/- টাকা লাভ হচ্ছে। অপরদিকে রমনা নৌঘাট থেকে দিনে মাত্র দু’টি নৌকা অষ্টমীরচর আসতো। তাতে নৌকার মাঝিদের খরচ বাদ দিয়ে ৫ /৬’শ টাকা টিকতো। বর্তমানে দিনে তাদেরকে ৮-৯ বার নদী পারি দিতে হচ্ছে । এতে প্রতি নৌকার মাঝিদের ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা লাভ টিকছে। নৌকার সংখ্যাও বেড়ে গেছে, যেমনটা বেড়ে গেছে মানুষের আসা-যাওয়ার সংখ্যা।
মুদাফৎ কালিকাপুর এলাকার ইমদাদুল হক (১৭),রাজীবপুর উপজেলার শিকারপুর গ্রামের আবু আসাদ (২১), থানাহাট ইউনিয়নের নয়াবাড়ী গ্রামের নুরুজ্জামান (৫০),মুদাফৎ কালিকাপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম (৩৯),একই গ্রামের মোছাঃ আছিয়া (৩৫), রমনা ইউনিয়নের চর পাত্রখাতা গ্রামের ছালমা বেগম (৩২), একই গ্রামের মোছাঃ ময়ফুল (৩৩), রৌমারী উপজেলার টাপুরচর এলাকার আব্দুল ছাত্তার (৬৪),একই গ্রামের মোজাম্মেল (৪০),রৌমারী উপজেলার তালুকার চর গ্রামের আবুল কাশেম (৩৫) ও কোদালকাটি গ্রামের এমদাদুল হক (৬০) এর সাথে কথা বলে জানাগেছে,তারা কেউ কেউ পেটের অসুখ, মাথা ব্যাথা,বুকের ব্যাথা, চোখের সমস্যা ও পক্ষাঘাত রোগে ভোগছিল। অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন শিশুটির পানি ও তেল পড়া ও ঝার ফু’র মাধ্যমে বর্তমানে সুস্থ্য হয়ে গেছে।
অনেকে আবার শিশুটির অলৌকিক ক্ষমতা সর্ম্পকে সন্দিহান। তাদের ধারনা এটা পয়সা রোজগারের জন্য এক ধরনের ফাঁদ পাতা হয়েছে। এ ব্যাপারে অষ্টমীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ সোহরাব হোসেনের মুখোমুখি হলে তিনি জানান, ঝার-ফু, পানি পড়া ও তেল পড়ার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড  বন্ধ করার জন্য তার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে ইতোমধ্যে নোটিশ প্রদান করা হলেও, লোকজন কোনও কথা শুনছে না ও মানছেনা। তারা উপকার পাচ্ছে দাবী করে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ ভীর জমাচ্ছে শিশুটির বাড়ীতে।
মোঃ ফজলুল হক
চিলমারী,কুড়িগ্রাম
০১৭১১-৪১৪৫৭৫

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন