সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

তিস্তা নদীর উপর দিয়ে নতুন বাঁধ সংরক্ষনের দাবি এলাকাবাসীর



তিস্তা নদীর উপর দিয়ে নতুন বাঁধ সংরক্ষনের দাবি এলাকাবাসীর thumbnail
চিলমারী সংবাদঃ
উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গ্রামগুলো তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে প্রতি বছর। বন্যা মৌসুম শুরু হলেই দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙ্গন। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সাদুয়া দামারহাট, খামারদামারহাট, পশ্চিম বজরা, সাতালস্কর, চর বজরা ,চর বজরা পুর্বপাড়া ,কাসিমবাজার  ও বিরহিম। গত বছর বন্যা মৌসুমে তিস্তার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে ইমান ব্যাপারীর গ্রাম,বুড়ার গ্রাম, পরেশ শীলের গ্রাম, আকবর হুজুরের গ্রামসহ চর বজরা উচ্চ বিদ্যালয়, চর বজরা রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বজরা এবতেদায়ী মাদ্রাসা, বি রহিম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ। নদী ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ায় শিা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যত্র স্থানন্তর করা হয়েছে। ভাঙ্গণের শিকার পরিবারগুলো বিভিন্নস্থানে কোন রকমে মাথা গোজার ঠাই পেলেও আরো এলাকার শত শত পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে বজরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: রেজাউল করিম আমিন জানান, গত বন্যায় তার ইউনিয়নের প্রায় কয়েক হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। ভেঙ্গে গেছে বজরা ইউনিয়নের অনেক মৌজা,এলাকার বাঁধ রাস্তা। বিষয়টি তাৎনিকভাবে পাউবোকে জানানো হয়েছে। সরকারীভাবে নদীর তীর সংরণ বা প্রতিরার ব্যবস্থা করা সময়ের ব্যাপার। এ কারণে তিনি অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্পের আওতায় মোট ৪৮৫ জনের মধ্যে ৩০২জন শ্রমিক দিয়ে নদীর ভাঙ্গণ ঠেকাতে দুই হাজার ফিট রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেছেন।
সাতালস্কর রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তার মাথা থেকে শুরু করে দেিণ গোটা নদীর উপর দিয়ে তৈরী হবেএ রাস্তা। রাস্তার দৈর্ঘ্য এক হাজার ১শ’ফিট এবং প্রস্থ্য ৫০ফিট।
শ্রমিক নুর জাহান, মজিবর, মোঃআঃছাত্তার, হোসেন, আমেজা, রসিদা, জামেনা,মমতাজ বেগম ও নুরজ্জামান জানান, রাস্তাটির কাজ সম্পন্ন হলে বন্যা মৌসুমে নদীর স্রোত পরিবর্তন হবে। এতে  এ কটি মৌজার আবাদী জমি, ঘরবাড়ী, রাস্তা-ঘাট, শিা প্রতিষ্ঠান তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গণ থেকে রা পাবে। এছাড়াও ১৫ হাজার পরিবার জমি ফিরে পাবে এবং স্বাবলম্বী হবে। তারা আরো বলেন এক সময় বজরা ও কাসিম বাজারের ফসল, শাক সবজি, গম, ভুট্রা, বাদাম, পিয়াজ, মরিচ, কাউন, শরিশা, ডাল কুড়িগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেতো। বাধটি নির্মান হলে চিলমারী উপজেলা হইতে সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্ন্য়ন হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাধটি যেভাবে তৈরী করা হচ্ছে বর্ষায় তা টিকবেনা তাই বাঁধটির দুই পাশে পাইলিং এর ব্যবস্থা করলে নদী ভাঙ্গঁন থেকে রা পাবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন